দ্য ওয়াল ব্যুরো : দেশ জুড়ে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপক গুপ্ত বললেন, বিক্ষোভ দেখানো মানেই দেশদ্রোহিতা নয়। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও রাজনৈতিক দল গরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বলেই বাকিরা মুখ খুলতে পারবে না, পাঁচ বছর ধরে সব সহ্য করে যাবে, এমন ভাবা ঠিক নয়।
বিচারপতির কথায়, "কোনও রাজনৈতিক দল যদি ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসে, তার মানে এই নয় যে, দেশের বাকি ৪৯ শতাংশকে পাঁচ বছর চুপ করে থাকতে হবে।" সরকারের সমালোচনা সম্পর্কে তিনি বলেন, "মন্ত্রিসভা, বিচারব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র বা সশস্ত্র বাহিনীর বিরোধিতা করা মানে দেশদ্রোহিতা নয়। আমরা যদি বিরোধীদের মুখ বন্ধ করে দিই, তাহলে ভারত আর গণতান্ত্রিক দেশ থাকবে না। তা পুলিশ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।"
পরে তিনি বলেন, "প্রশ্ন করা, যাচাই করা, সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার আছে প্রত্যেক নাগরিকের।" সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত 'গণতন্ত্র ও বিক্ষোভ' নামে এক ভাষণে বিচারপতি একথা বলেন। তাঁর ভাষণ শেষ হলে বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা উঠে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানান।
গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন সমাজকর্মী, আইনজীবী ও ছাত্রের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দেওয়া হয়েছে। তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি বলেন, "সাম্প্রতিককালে দেখা গিয়েছে, অনেকগুলি ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের দেশদ্রোহী তকমা দেওয়া হয়েছে। সংখ্যাগুরুর মতামত কারও ওপরে চাপিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রের বিরোধী।"
এরপরে তিনি বলেন, "যারা ক্ষমতায় থাকে তারা অনেক সময় বলে, আমরা দেশের সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি। বেশিরভাগ সময়েই দেখা যায়, তাদের কথা ঠিক নয়। তারা নির্বাচিত সরকার হতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা সকলের প্রতিনিধিত্ব করছে।"
সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, যারা ক্ষমতায় আছে, তারা যাতে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ না করতে পারে, তা আমাদের দেখতে হবে।
গত শনিবার সুপ্রিম কোর্টের অপর বিচারপতি অরুণ মিশ্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে বলেছিলেন, তিনি বহুমুখী প্রতিভা। সেই প্রেক্ষিতে বিচারপতি দীপক গুপ্তর মন্তব্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। তিনি বলেন, "সরকার কখনও কয়েকজনের খেয়ালখুশিমতো কাজ করতে পারে না। তার কাজ আইন মেনে চলা। সরকার সবসময় ঠিক কাজ করতে পারে না। নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার আছে।"