
শেষ আপডেট: 1 December 2021 15:38
গনেশ টকিজের আশপাশের এলাকায় আড়াই মাস ধরে ভাঙার কাজ চলছে। এলাকার লোকজনের দাবি, রাস্তাঘাট বন্ধ, আলো নেই। অনেক সমস্যা সত্ত্বেও ভাঙার কাজ দ্রুত হচ্ছে। একটাও গাছ কাটা পড়েনি। একটি বাদে কোনও মন্দিরই ভাঙতে হয়নি। কিন্তু ওই তিনটি বারান্দা নিয়েই বিপত্তি শুরু হয়েছে। যার ফল ভুগতে হচ্ছে সবাইকে।
ওই এলাকার ২৭ নম্বর বিবেকানন্দ রোডের বিমল খৈতানের বাড়ির পুরনো বারান্দা প্রায় রাস্তা ছুঁইছুঁই। যার ওপর দিয়েই ব্রিজটি গিয়েছিল। এখন ভাঙা অংশ নামাতে গেলে ওই বারান্দা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্রিজ ভাঙার দায়িত্বে থাকা সংস্থার এক ইঞ্জিনিয়ার জানালেন। আমরা বারান্দা ভাঙা পড়তে পারে একথা জানিয়েছি ওঁদের। তাতে কোনও আপত্তি নেই বাড়ির মালিকের। কিন্তু তাঁর, দাবি নতুন করে তৈরি করে দিতে হবে, এই মুচলেকা দিতে হবে। না হলে ভাঙতে দেবেন না।
এলাকার লোকজন জানালেন, কলকাতা পুরসভা জানিয়েছে, ওই বারান্দাগুলি অবৈধ। তাই ভাঙার পর নতুন করে নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না। এতেই বেঁকে বসেছে বাড়ির মালিকেরা। জানা গেছে, বারান্দা ভাঙা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ২৫ নম্বর বিবেকানন্দ রোডের বর্মন হাউসের মালিকও। দুটি বাড়িতেই গিয়ে বিষয়টিতে খোঁজখবর নেওয়া হলে বাসিন্দারা কিছু জানাতে রাজি হননি।
এলাকার বাসিন্দা মোহন শর্মা বললেন, 'ওদের লড়াইয়ের জন্য আমাদের জীবন দুর্বিষহ হচ্ছে। গতকালও কেএমডিএ-এর লোকজন বোঝাতে এসেছিল। ওরা মানছে না। এদিকে তিনমাস হতে চলল, আমরা হাঁটাচলা করতে পারছি না। কাজকর্ম বন্ধ। আলো নেই।'
ওই বারান্দার নীচেই চাউমিনের অস্থায়ী দোকান ছিল দীপক দাসের। বললেন, 'চারমাস ধরে দোকান বন্ধ। কেউ খোঁজ নেয়নি। ভোটের আগে আমাদের যত কদর। ভোটের সময় শাসকদলের ঝান্ডা নিয়ে ছুটেছি। এখন কেউ পাত্তাও দিচ্ছেনা।'
একই বক্তব্য, স্টেশনারি দোকানি দেবনাথ মুখোপাধ্যায়ের। বললেন, 'আমরা সাসপেন্সে রয়েছি। কী হবে কে জানে। কিছুই বুঝতে পারছিনা।'
স্থানীয় বাসিন্দা সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বললেন, 'এখানে যারা করে খেত তাঁদের অবস্থা দুর্বিষহ। আমরাও সমস্যায়। সন্ধে নামলেই এলাকা অন্ধকার। বাড়ি থেকে বেরোতে পারিনা। তারমধ্যে এই পুরসভা-বাড়িওলা সংঘাত। আমাদের কথা সরকার ভাবছেই না।'