দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস ধরা পড়েছিল বাবার শরীরে। সাত-তাড়াতাড়ি তাঁকে আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে। বাড়িতে একা ছিল কিশোর সন্তান, সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত। হাঁটাচলা করতে বা কথা বলতে পারত না। নিজে খেতেও পারত না। হুইলচেয়ারেই বন্দি থাকত সব সময়। বাবাকে আলাদা করে ফেলার পরে, দেখভালের অভাবে, কার্যত না খেতে পেয়ে প্রাণ হারাল সে। মর্মান্তিক এই ঘটনার কথা সামনে আসার পরে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না বহু নেটিজেন।
হুবেই প্রদেশের হুজিয়াহ শহরের এই ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী ইয়ান চেংয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয় তার ঘর থেকে। সপ্তাহ দুয়েক আগে নিউমোনিয়া হয়েছিল ইয়ান চেংয়ের বাবা ইয়ান জিয়াওয়েন। । ২২ জানুয়ারি তাঁকে বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন করে হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় ধরা পড়ে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনি।
ঠিক এক সপ্তাহ পরে, ২৯ জানুয়ারি মারা যায় তাঁর কিশোর সন্তান ইয়ান চেং। ইয়ানের মা মারা গেছেন কয়েক বছর আগেই। তার পর থেকে তার সমস্ত দেখভাল বাবাই করতেন। বাবাকে আইসোলেশনে পাঠানোর পরে তাকে দেখাশোনা করার বা খাওয়ানোর কেউ ছিল না। কার্যত এক জায়গায় পড়ে থেকে, টুঁ শব্দটিও না করতে পেরে, খাবার না পেয়ে, জল না পেয়ে তিলেতিলে মারা গেছে সে।
তবে চেংয়ের বাবা আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় চিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘উইবু’-তে আবেদন করেছিলেন, তাঁর প্রতিবন্ধী সন্তান খাবার-জল ছাড়া একা পড়ে রয়েছে ঘরে। সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি। ‘নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজন বাবার আর্তি’ বলে একটি লেখা পোস্ট করেন তিনি। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। এই তথ্য সামনে আসার পরেই সরকারের তরফে পদ থেকে সরানো হয়েছে স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও শহরের মেয়রকে। কারণ এমন জরুরি অবস্থায় এলাকার প্রতিবন্ধী কিশোরের খেয়াল রাখতে না পারার দায় তাঁদের উপরেই বর্তায় বলে মনে করছে চিন প্রশাসন।
ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাস নিয়ে ‘গ্লোবাল হেল্থ এমার্জেন্সি’ জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। চলতি সপ্তাহে চিনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে আরও ৬৪ জনের, সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৪২৫ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে চিন।
হুবেই প্রদেশেই ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ। সেখানকার হেলথ কমিশন জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা প্রায় আড়াই হাজার মানুষের। সব মিলিয়ে চিনে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ।