
ডেপুটেশন জমা দিলেন প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা
শেষ আপডেট: 21 April 2025 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আট বছর ধরে চাকরি করার পর নিয়োগদুর্নীতির কারণে যখন এসএসসি ২০১৬-র (SSC) গোটা প্যানেল বাতিল হয়ে গিয়েছে, তখন রীতিমতো যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মীদের। পশ্চিমবঙ্গের যে প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা (Physically Handicaped) চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁরা আপাতত স্কুলে যেতে পারলেও নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গেলে তাঁদের চাকরি 'বাতিল' হিসাবে গণ্য হবে এমনটাই নির্দেশ রয়েছে শীর্ষ আদালতের রায়ে (Supreme Court)।
এমন অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্য জন্য কিছু 'বিশেষ ছাড়ের' কথাও বলেছে। সেই কথা মাথায় রেখেই সোমবার এসএসসি ভবনে ডেপুটেশন জমা দিলেন তাঁরা। যেখানে বলা হয়েছে, তাঁদের প্রতিবন্ধকতার কথা মাথায় রেখে যেন কমিশন নতুন করে পরীক্ষা যাতে না দিতে হয়, সেই ব্যাপারটা দেখে।
প্রতিবন্ধী চাকরিহারাদের বক্তব্য, গোটা প্যানেলে নিয়োগ দুর্নীতি হলেও তাঁদের কোটা দুর্নীতিমুক্ত। উদাহরণ দিয়ে বলেন, যেখানে শূন্যপদ ছিল ৯টি, সেখানে চাকরিপ্রার্থী ছিলেন আটজন। অর্থাৎ সেখানে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন না। সেক্ষেত্রে সবটা বিচার-বিবেচনা করে যাতে কমিশন তাঁদের চাকরি বহাল রাখতে সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, সেই আর্জিও জানানো হয়েছে ডেপুটেশনে। জানা গিয়েছে এসএসসির চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার বুধবার এ ব্যাপারে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
বস্তুত, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, মানবিক কারণে সোমা দাসের চাকরি বহাল রাখা হচ্ছে। কিন্তু অন্য প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা এই সুবিধা পাবেন না। কারণ, তা আইনের শাসনের পরিপন্থী। তবে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং নিয়োগ সম্পূর্ণ না-হওয়া পর্যন্ত তাঁদের চাকরি করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
মাঝের সময়টুকু তাঁরা বেতনও পাবেন। ওই প্রার্থীদের প্রতিবন্ধকতার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ আদালত। নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এই প্রতিবন্ধী প্রার্থীরাও যোগ দিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে যদি প্রয়োজন হয়, তাঁরা বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন। অন্যান্য সুযোগসুবিধাও তাঁদের দেওয়া হবে।