
শেষ আপডেট: 7 April 2023 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে লড়াইয়ের নতুন রানি তিরন্দাজ (Archer) দীপ্তি কুমারি (Dipti Kumari)। ঝাড়খন্ডের হতদরিদ্র আদিবাসী পরিবারের এই কন্যা লড়াই দিয়েই রূপকথা রচনা করেছেন। তিনি হয়ে উঠেছেন সত্যিকারের বীরাঙ্গনা।
১৪ বছর বয়সেই বাবার বানিয়ে দেওয়া বাঁশের ধনুক নিয়েই দীপ্তি স্কুল স্তরে সেরা হয়েছিল। সেই শুরু, বাঁশের ধনুক নিয়েই রাজ্য স্তর পর্যন্ত ৬৬টি পদক জিতেছেন। জাতীয় স্তরে আবার বাঁশের ধনুক চলে না। তাই দিনমজুর বাবাকে ধার করেই কিনতে হয়েছে ধনুক। সেটি দিয়ে প্র্যাকটিস করেই আরও ২০টির বেশি পদক।
সাহসীদের পাশে থাকে সবাই, তাই দীপ্তিকে উন্নত মানের প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয় বিরষা মুন্ডা অ্যাকাদেমিতে। বাঁশের ধনুক ছেড়ে, আধুনিক ধনুক ধরার মাত্র দু'বছরের মধ্যে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দীপ্তি হারিয়ে দেন জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কমলিকা বারিকে। জাতীয় সেরার মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়।
এর মধ্যে আমেরিকার একটি আমন্ত্রিত আসরে ডাক পান এই নামী তিরন্দাজ। কিন্তু আন্তর্জাতিকমানের ধনুক কেনার জন্য মা ঋণ করেন চার লক্ষ টাকা। সেটি নিয়ে গেলেও সেটি আমেরিকায় গিয়ে ভেঙে যায়। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে দীপ্তির।
বিদেশ থেকে ফিরে দীপ্তি দেখেন মা হাসপাতালে ভর্তি, কঠিন অসুখ। বাবার রোজগারে হচ্ছে না, দাদা রিক্সা চালান। তার মধ্যে এতগুলির টাকা ঋণ। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ৬০ হাজার টাকা খরচ করে একটি চায়ের দোকান খোলেন। সেই দোকান আজও চলছে ঝাড়খন্ডে। কিন্তু দীপ্তির সেই দামী ধনুক কেনা আর হয়নি। দোকানে বিশিষ্টজনরা গেলেই তাঁদের অনুরোধ করেন ওই তিরন্দাজ। যাঁর স্বপ্ন দেশের হয়ে অলিম্পিক জেতা, বিদেশ থেকে সাফল্য আনা।
দীপ্তির কোচ প্রণতি শর্মা দ্য ওয়ালকে বলছিলেন, মেয়েটার মনের জোর বাকিদের থেকে অনেকবেশি। দু’বেলা দোকানে পড়ে থেকেও বিকেলে সময় করে তিরধনুক নিয়ে প্র্যাকটিসে চলে যায়। ওর এত প্রতিভা, তারপরেও কেন্দ্র সরকার কেন ওর পাশে দাঁড়াচ্ছে না, সেটাতেই আমরা অবাক হয়ে যাই।
লখনউতে ঢাকল ‘সূর্যোদয়’, হায়দরাবাদকে দুরমুশ লোকেশদের