দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্যান্য দিনের মতোই সে দিন মাছ ধরতে গেছিলেন নরওয়ের মৎস্যজীবী অস্কার লুনড্যালবে। গভীর সমুদ্রে পাওয়া যায় ‘ব্লু হ্যালিবুট’ মাছ, সুস্বাদু হওয়ার কারণে বাজারে যার দাম বেশ চড়া। নরওয়ের সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার ভিতরে গিয়ে, জলের ৮০০ মিটার গভীরে বঁড়শি ফেলে অপেক্ষা করছিলেন। খানিক পরে টানও পড়ে বঁড়শির সুতোয়। কিন্তু অস্কার ভাবেননি, সেই মাছ তোলার পরেই পাল্টে যাবে তাঁর জীবন! সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে যাবেন তিনি!
বঁড়শিতে টান পড়ার পরে অভ্যাস মতোই সুতো গোটাতে থাকেন অস্কার। তখনই বুঝতে পারেন, বড়সড় মাছ টোপ গিলেছে। সহজে তুলতেও পারেননি সেই মাছবাবাজিকে। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে গলদঘর্ম প্রচেষ্টার পরে নৌকোয় তুলতে পারেন মাছটি। কিন্তু সে মাছ দেখেই তাঁর চক্ষু ছানাবড়া! রীতিমতো ভয় পেয়ে যান তিনি! এ কী উঠল নৌকোয়! এমন মাছ তো কখনও দেখেননি তিনি! এক ঝলক দেখে মনে হচ্ছে, ছোটখাটো একটি ডাইনোসর উঠে এসেছে সমুদ্র থেকে। শরীরটি বড়, ফোলা। লেজ সরু। চোখগুলো শরীরের তুলনায় অনেক বড়-বড়, প্রায় ঠিকরে বেরিয়ে আসছে।
একটু ধাতস্থ হয়েই মাছটিকে হাতে নিয়ে ছবি তোলেন অস্কার। পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার পরেই ভাইরাল হয়ে যায় সেই ছবি। সেই সঙ্গে মানুষ জেনে যায় অস্কারের কথাও, যিনি বিরল-দর্শন মাছ শিকার করেছেন। সংবাদমাধ্যমেও খবর যায়, সেখানেও প্রকাশিত হয় এই মাছের কথা। তিনি স্থানীয় সংবাদপত্রে বলেছেন, "প্রথমে ভয় পেলেও, পরে বুঝতে পেরেছিলাম এমন কিছু একটা পেয়েছি, যা সহজে পাওয়া যায় না। ডাইনোসরের মতো দেখতেওই মাছের নাম আমি জানি না।"
https://twitter.com/BajaExpeditions/status/1173467460453818368?
পরে অবশ্য নাম জানা যায়। ব়্যাটফিশ নামে পরিচিত মাছটি বিরল প্রজাতির। হাঙরেরই সমগোত্রীয় তারা। গভীর সমুদ্রের তলদেশে বাস করার কারণে, এদের সহজে দেখা যায় না। এরা প্রায় ৩০ কোটি বছরের পুরনো প্রজাতি বলে জানিয়েছেন মৎস্য-বিশেষজ্ঞরা।
তবে অস্কার অবশ্য মাছটিকে ধরেই ছাড়েননি। সেটাকে বাড়িতেও নিয়ে যান। ভয়ঙ্কর এই প্রাণীকে দেখে চমকে যায় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও। অস্কার জানিয়েছেন, দেখতে যতই খারাপ হোক, তাঁরা ওটাকে কেটে, ভেজে, খেয়েও নিয়েছেন। একটু অন্য রকম স্বাদের হলেও নাকি আদতে বেশ সুস্বাদু এই ব়্যাটফিশ।


