
মমতার আমন্ত্রণে দিঘায় দিলীপ?
শেষ আপডেট: 29 April 2025 21:22
বুধবার অক্ষয় তৃতীয়া। দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের আনুষ্ঠানিক ভাবে দরজা খুলবে। প্রথমবার দেখা যাবে, গর্ভগৃহে অধিস্থান করা জগন্নাথ দেব (Jagannath Temple), বলভদ্র ও সুভদ্রাকে। সেই ‘অমৃত মুহূর্তের’ সাক্ষী হতে নতুন তৈরি এই মন্দির (Digha Jagannath Temple) চত্বরে বুধবার দেখা যেতে পারে নব দম্পতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ও রিঙ্কু মজুমদার (Rinku Majumdar) ঘোষ।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দিঘায় এ ব্যাপারে জল্পনা। এদিন বিকেল মন্দিরে পূর্ণাহুতির ধোঁয়া যখন কুণ্ডলী পাকিয়ে উপরে উঠছে, তখনও দর্শকাসনে ফিসফাস, ‘কাল নাকি দিলীপ দা আসছেন! কাঁথিতে শুভেন্দু অধিকারী সনাতনিদের নিয়ে কীর্তন করবেন আর দিঘায় দিলীপ!’
সন্ধেয় প্রাক্তন রাজ্য বিজেপির দিলীপ ঘোষের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল দ্য ওয়াল। তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু জানালেন সবটা।
দ্য ওয়ালকে রিঙ্কু বলেন, “সেই যে সেদিন যখন গিরিরাজ সিং আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন, সেদিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) লোক পাঠিয়ে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদঘাটন অনুষ্ঠানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন”। দিলীপের স্ত্রী বলেন, “কথা তো ছিল যাওয়ার। উনি আজ মুর্শিদাবাদে গিয়েছেন। রাতে ফিরবেন। শেষ মুহূর্তে কোনও প্ল্যান বদল না হলে আমরা কাল যাব”।
বুধবার দিঘায় যখন আনুষ্ঠানিক উপাচারের মধ্যে দিয়ে মন্দিরের দরজা খুলবে, তখন অদূরে কাঁথিতে হরিনাম সংকীর্তন হবে। তার আয়োজক হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার আদালত তাঁদের নির্দেশ দিয়েছে সনাতনী সভা করার।
শুধু দিলীপ তো নন, রিঙ্কুও বিজেপির সক্রিয় সদস্য। এদিন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এ নিয়ে বিড়ম্বনা হবে না! আপনারা জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনে উপস্থিত থাকলে দলের মধ্যে ও বাইরে প্রশ্ন উঠবে না?
এ কদিনে দিলীপ ঘোষের স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা বলেছে দ্য ওয়াল। তাতে বেশ বোঝা গেছে, এই মহিলা নেত্রীর কোনও ভনিতা নেই। হয়তো দিলীপ ঘোষের প্রভাব বা স্বামীর ঘরানায় অনুপ্রাণিত। স্পষ্ট কথা বলেন। এ দিনও প্রশ্ন শুনেই রিঙ্কু বলেন, “না না অস্বস্তির কী আছে! জগন্নাথ মন্দির কি কারও একার! মন্দির তো সবার।”
রিঙ্কুর কথায়, অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি যাননি, সেটা ভিন্ন কথা।
জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার ব্যাপার দিলীপ-দম্পতির উৎসাহর ব্যাপার নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তাঁর দফতর সূত্রে বলা হয়েছে, কাঁথির সভার আয়োজন নিয়ে বিরোধী দলনেতা ব্যস্ত রয়েছেন।
শুভেন্দু যখন বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন তাঁকে নিয়ে বেশ উৎসাহ ছিল দিলীপের। মেদিনীপুরে যোগদান সভা হয়েছিল ১৯ ডিসেম্বর। সেই শীতেই শুভেন্দুকে একদিন বাড়িতে ডেকে মিষ্টি খাইয়েছিলেন দিলীপ। একটা নীল রঙের কাট স্লিভ জ্যাকেট উপহার দিয়েছিলেন শুভেন্দুকে। তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে সেই আগের উষ্ণতা এখন অনেকেই দেখতে পান না। বরং সাধারণ ধারণা হল, দুজনের সম্পর্কে শৈত্য চলছে। এই যেমন সেদিন পহেলগামে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিজেপি পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়েছে। যা দেখে দিলীপ বলেছেন, এভাবে একটা দেশের পতাকা পোড়ানো ঠিক না।
তবে হ্যাঁ, মুখোমুখি দেখা হলে সৌজন্য দেখাতে ভোলেননা দিলীপ বা শুভেন্দু। এদিন দিলীপবাবুর স্ত্রীও বলেন, আরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। তা বলে সৌজন্য থাকবে না কেন। বুধবার শেষমেশ তাঁরা যদি জগন্নাথ মন্দিরে গিয়ে পৌঁছন তাহলে সেটা শুধুই সৌজন্যের জন্য।
দিঘার ওই মন্দিরে যেতে হলে কাঁথি হয়েই যেতে হবে। এখন দেখার দিলীপের গাড়ি কাঁথিতে সনাতনীদের মঞ্চের সামনেও দাঁড়ায় কিনা। সবটাই তো ‘সৌজন্য’।