.jpeg)
দিলীপ ঘোষ ও রিঙ্কু মজুমদার
শেষ আপডেট: 18 April 2025 11:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে থেকেই রাজ্য বিজেপিতে খানিক কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। অমিত শাহর সঙ্গে কোনওকালেই তাঁর তেমন সখ্য ছিল না। রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর উত্থান প্রায় আগাগোড়াই সঙ্ঘ পরিবারের সৌজন্যে। লোকসভা ভোটের পর এহেন দিলীপ (Dilip Ghosh) কার্যত প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছিলেন।
ডানপন্থী রাজনীতিতে এমনই হয়। ক্ষমতায় যাঁরা থাকেন তাঁদের ঘিরেই ভনভন করেন কর্মীরা। সংগঠনে দিলীপের কোনও পদ নেই। আর সাংসদ নন, তাই দিল্লিতেও তেমন দাম নেই। কেউ কেউ বলতে শুরু করেছিলেন দিলীপ কি তবে হারিয়ে যাচ্ছেন! (Dilip Ghosh Marriage)
সেই তিনি, দিলীপ ঘোষ, বৃহস্পতিবার সন্ধেয় তাঁর নিউটাউনের বাসভবনে টেবিল চাপড়ে বললেন, 'তবে রে! দিলীপ ঘোষ হারিয়ে যাচ্ছে! এই দ্যাখ সাত দিন ধরে এখন এই খবর চলবে!' (Dilip Ghosh Wedding)
সামনে রাখা টিভির পর্দা জুড়ে তখন দিলীপ ঘোষের বিয়ের খবর চলছে। দিলীপ ঘোষ যে বিয়ে করতে চলেছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধেয় সবার আগে সেই খবর প্রকাশিত হয়েছিল দ্য ওয়ালে। দিলীপ তখন ফোন ধরেননি। কিন্তু তাঁর হবু স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার ফোনে দ্য ওয়ালকে বলেন, “হ্যাঁ কাল আমাদের বিয়ে।” দিলীপের সঙ্গে তাঁর কবে কোথায় প্রথম সাক্ষাৎ, সে সবও বিস্তারে দ্য ওয়ালকে বলেন রিঙ্কু। (Dilip Ghosh Would be wife)
তার পর থেকে তামাম সংবাদমাধ্যমে সেই খবর চলতে থাকে। রাজ্য রাজনীতিতে দিলীপ ঘোষ একটা বর্ণময় চরিত্র। তাঁর বিয়ে নিয়ে যে কৌতূহলের স্রোত বয়ে যাবে, তা সঠিক অনুধাবন করেছিল সংবাদমাধ্যমগুলি। হয়েছেও তাই। আর সেটাই নাকি বাড়িতে বসে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছেন দিলীপ। (Dilip Ghosh Registry)
তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, দিলীপ বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে খুব একটা ফোন ধরেননি। তবে হ্যাঁ, তাঁর কাছের কয়েকজনকে ফোন করেছেন। এমনকি ভিডিও কলও করেছেন। তাঁর এক বন্ধু তাঁকে বলেন, আপনার বিয়ে নিয়ে এত ফোন আসছে যে বিরক্ত লাগছে। সূত্রের দাবি, জবাবে দিলীপ বলেন, বিরক্ত হচ্ছো কেন, উপভোগ করো! এরাই বলছিল না, দিলীপ ঘোষ হারিয়ে গেছে... এখন দেখো না, সাত দিন ধরে দিলীপ ঘোষকে নিয়ে খবর চলবে।
অনেকেরই স্ত্রীর ভাগ্যে মঙ্গল হয়। দীপা দাশমুন্সির সঙ্গে বিয়ের পর প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির রাজনৈতিক কেরিয়ারে উত্থান হয়েছিল। কংগ্রেস রাজনীতিতে এর পর ক্রমশই উপরের দিকে ওঠেন প্রিয়রঞ্জন। তিনি শয্যাশায়ী না হলে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারে আরও বড় মন্ত্রকের দায়িত্ব পেতেন। প্রিয়কে বিয়ে করে রাজনৈতিক উত্থান হয়েছিল দীপারও। কেন্দ্রে প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন দীপা। এখন তিনি কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য।
শিখা মিত্রকে বিয়ে করার পর সোমেন মিত্ররও রাজনৈতিক জীবনে গতি এসেছিল। পরবর্তী কালে ডায়মন্ড হারবার থেকে লোকসভার সাংসদ হয়েছিলেন সোমেন মিত্র। আবার সোমেনকে বিয়ে করার দৌলতে বিধায়ক হয়েছিলেন শিখা মিত্র।
এখন দেখার, এই বিয়ে দিলীপ ঘোষকে রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে দেয় কিনা। কারণ, বিয়ে নিয়ে হইচই মানেই রাজনৈতিক ভাবে দিলীপের জীবনে নতুন ফুল ফুটবে, এমন নয়। আবার এও দেখার, এই বিয়ে রিঙ্কুর রাজনৈতিক জীবনেও নতুন কোনও অধ্যায় রচনা করে কিনা।