
শেষ আপডেট: 18 April 2025 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিঙ্কু মজুমদারের ব্যাপারটা খুব স্পষ্টই ছিল। দিলীপ ঘোষকে তিনি কেন বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সে ব্যাপারে তাঁর পরিচ্ছন্ন একটা ভাবনা রয়েছে (Dilip Ghosh Marriage)। রিঙ্কু কোনও সঙ্কোচ না রেখেই বলছেন, আর কতদিন সমাজ ও পরিবারের জন্য করব। নিজের জন্যও তো ভাবতে হবে। আমারও একটা জীবন রয়েছে, সাধ রয়েছে, ইচ্ছে রয়েছে।
রিঙ্কুর (Rinku Majumder Dilip Ghosh Wife) মুখে এ কথা শুনতে শুনতে আশা ভোঁসলের গাওয়া সেই আধুনিক বাংলা গানটি মনে পড়ে যেতে পারে—"মিলন ছন্দ ঝরা সোহাগ নিয়ে, সেতারটা আর কত বাজবে, শুধু শুধু মন কত সাঁজবে..”।
কিন্তু দিলীপ ঘোষ? (Dilip Ghosh) সারা জীবন ব্রহ্মচারী থেকে যাওয়ার শপথ নিয়ে যে মানুষটা দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, তাঁর মন হঠাৎ করে সিক্ত হয়ে উঠল কীসে!
রিঙ্কুই জানিয়েছিলেন, তাঁদের দেখা সাক্ষাৎ অনেক দিনের। তবে সে অর্থে কনে দেখা হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে। তখন ভাদ্র মাস। দিলীপ জানালেন, বিয়ের প্রস্তাবটা দিয়েছিলেন রিঙ্কুই। তিনি নন। রিঙ্কু তাঁকে বলেন, তিনি সংসারের সব দায়িত্ব সামলেছেন। ছেলেও বড় করে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়েছেন। এখন তিনি বড় একা। তাঁর একজন সঙ্গী প্রয়োজন।
দিলীপ (Dilip Ghosh Wedding) জানান, রিঙ্কু তাঁকে বলে দিলীপ দা তুমিও কেন সারাজীবন একা থাকবে! তোমারও একজন সঙ্গী দরকার। তুমি চাইলে আমরা বিয়ে করতে পারি। আমি তোমাকে আর তোমার সংসার সামলে রাখব।
দিলীপ ঘোষের বর্তমান সংসার বলতে তিনি আর তাঁর ৮৪ বছরের মা। দিলীপের কথায়, আমি সেই কোন ছোটবেলায় পড়াশুনার জন্য বাড়ি ছেড়েছি। জীবনের ৫৫টা বছর বাড়ি ছেড়ে মাকে ছেড়ে দূরে দূরে থেকেছি। এখন মা সঙ্গে থাকেন। বাড়িতে পরিচারিকা রয়েছে ঠিকই। তবু মনে হত, মাকে এক গ্লাস জল গড়িয়ে দেওয়ার তো কেউ নেই। আমাকেই বা কে দেখবে।
দিলীপের কথায়, রিঙ্কু (Rinku Majumder) বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর মাকে বলি। মা ‘ইয়েস’ করেন। তার পরই বিয়েতে সম্মতি দিই। এটা একদিনের ব্যাপার। আমি আমার মিশনে অবিচল থাকব।
দিলীপ ঘোষ ব্যাপারটা যতটা আড়ষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, ব্যাপারটা যে ততটাও নয় তা জানিয়েছেন রিঙ্কু। তাঁর কথায়, দিলীপ ঘোষকে বাইরে থেকে ওরকম কঠিন মনে হয়। ভিতরটা তাঁর খুব নরম। প্রেমিক হিসাবে একশ নম্বর তাঁকে দেওয়া যায়।
রিঙ্কু এও বলেন, তিনি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ঠিকই, তবে সেই সাহস সঞ্চয় করারও কারণ ছিল। তিনি বুঝতে পারতেন, তাঁকে পছন্দ করেন দিলীপ। তাই সাহস করে বিয়ের কথাটা পেড়ে ফেলেন।
রিঙ্কুর কথায়, যে মানুষটা ব্যক্তিজীবনে ও রাজনীতিতে এতটা সুশৃঙ্খল, তিনি নিশ্চয়ই স্বামী হিসাবে ভাল হবেন। এতেও দিলীপকে আগাম একশ নম্বর দিয়ে রেখেছেন রিঙ্কু।
বস্তুত দিলীপ-রিঙ্কুর বিয়ে যতটা ঘরোয়া যতটা সাদামাটা হবে মনে করা হচ্ছিল, ব্যাপারটা এখন তাতে থেমে নেই। সকালেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছেন সুকান্ত মজুমদার সহ রাজ্য বিজেপি নেতারা। দুপুরে শুভেচ্ছা ও ফুল পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিলীপ-রিঙ্কুর বিয়ে রীতিমতো হইহই ব্যাপার চলছে নিউটাউনে।