.webp)
দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 9 June 2024 13:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে হেরে গিয়ে দিলীপ ঘোষ যখন তোলপাড় ফেলে দিচ্ছেন, তখন দিল্লি থেকে তাঁর উদ্দেশে একটা প্রচ্ছন্ন বার্তা এলো। তাতে বলা হল, শুভেন্দু অধিকারী অক্লান্ত পরিশ্রম না করলে এটুকুও হত না।
এ ব্যাপারে টুইট করে বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত বলেছেন, “ভোটের পর বাংলায় এখন খুবই চাপানউতোর দেখা যাচ্ছে। বাংলায় এই ভোটে বিজেপির মধ্যে প্রচুর উন্মাদনা তৈরি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর শুভেন্দু অধিকারী অক্লান্ত পরিশ্রম করে কর্মীদের উৎসাহ দিয়েছে। তাঁদের পারস্পরিক এই তালমিল না থাকলে ফলাফল আরও খারাপ হতে পারত”। সামগ্রিক ভাবে একটা খামতি যে ছিল তা অস্বীকার করেননি স্বপন।
There’s a lot of bad blood in the @BJP4Bengal after the polls. It was @narendramodi who created the enthusiasm for the BJP. It was the untiring efforts of @SuvenduWB that energised people on the ground. Without both of them complementing each other, the BJP in Bengal would have…
— Swapan Dasgupta (@swapan55) June 8, 2024
প্রশ্ন উঠতে পারে, স্বপন দাশগুপ্ত কে হরিদাস পাল?
একদা স্বপন দাশগুপ্তর শক্তির উৎস ছিলেন অরুণ জেটলি। তাঁর সূত্র ধরেই মোদী-শাহর সঙ্গে সখ্য স্বপনের। নরেন্দ্র মোদী গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই এই আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে ও মজবুত হয়েছে। তাই স্বপনের এই টুইটের অর্থ পরিষ্কার বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলা কেন সর্বভারতীয় বিজেপিতে অনেকেই জানেন, মোদী-শাহর থেকে সবুজ সংকেত না পেলে আগ বাড়িয়ে কারও কিছু বলার জো নেই। স্বপন যে সবটা হাওয়ায় হাওয়ায় বলছেন, তা বহু নেতাই মনে করছেন না। বরং তাঁদের মতে, এটাকে দিল্লির বার্তা বলেই ধরে নেওয়া ভাল।
বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনে হেরেছেন দিলীপ। তার পর থেকেই তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে মেদিনীপুর থেকে সরানো হয়ে থাকতে পারে। তাঁর সঙ্গে কাঠিবাজি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন দিলীপ। কারও বুঝতে বাকি নেই যে সুকান্ত-শুভেন্দুদের উদ্দেশ করে দিলীপ এসব বলছেন। মূলত তাঁর নিশানায় রয়েছেন শুভেন্দু।
তবে দিল্লির নেতারাও মনে করেন, বাংলায় শুভেন্দুর বিকল্প নেতা বিজেপিতে এখন নেই। সব প্রার্থী যে শুভেন্দুর কথায় হয়েছে তা নয়। দিল্লির তিন পর্যবেক্ষক তথা সুনীল বনশল, মঙ্গল পাণ্ডে ও অমিত মালব্য কলকাতায় বসেছিলেন। পেশাদার সংস্থাকে দিয়ে সমীক্ষা করানো হয়েছিল। তাতেও ধরা পড়েছিল যে মেদিনীপুরে দিলীপ ফের প্রার্থী হলে হেরে যেতে পারেন। বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, যে চাপানউতোর বাংলায় শুরু হয়েছে, তা অযাচিত। এটা কারও একার হার নয়। সামগ্রিক ভাবে বিজেপির কৌশলেই ভুল হয়েছে।