দ্য ওয়াল ব্যুরো : অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য গত ১৫ জানুয়ারি থেকে অনুদান সংগ্রহ করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। মন্দির নির্মাণের জন্য সোমবার ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা অনুদান দিলেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং। কংগ্রেসীদের মধ্যে তিনিই প্রথম রামমন্দির নির্মাণের জন্য অনুদান দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাঠানো ওই চেকের সঙ্গে ভিএইচপি-র সমালোচনাও করেছেন দিগ্বিজয়।
রামমন্দিরের জন্য ৪৪ দিন ধরে অনুদান সংগ্রহ করবে ভি এইচ পি। তহবিল সংগ্রহ অভিযানে নেমে তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল করছে। তার সমালোচনা করেছেন দিগ্বিজয়। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে দিগ্বিজয় লিখেছেন, "লাঠি ও তলোয়ার নিয়ে মিছিল করা, কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়া ধর্মীয় কর্মসূচির অংশ হতে পারে না।"
পরে তিনি লিখেছেন, ভিএইচপি-র এই কর্মসূচির জন্য মধ্যপ্রদেশে ইতিমধ্যে তিনটি অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে সমাজে সদ্ভাব নষ্ট হচ্ছে। মোদীকে সম্বোধন করে দিদ্বিজয় লিখেছেন, "আপনি জানেন, অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায় মন্দির নির্মাণের বিরোধিতা করে না। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আপনি নির্দেশ দিন যাতে কেউ অস্ত্র নিয়ে মিছিল না করে। ভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণাসূচক মন্তব্য না করে।"
দিগ্বিজয় চিঠিতে লিখেছেন, "রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের জন্য চেকটি আমি আপনার নামে পাঠাচ্ছি।" একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন, ভিএইচপি গত কয়েক বছর ধরে মন্দির নির্মাণে যে টাকা তুলেছে, তার হিসাব দিতে বলা হোক।
এর আগে রামমন্দির নির্মাণের জন্য ৫ লক্ষ ১০০ টাকা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সহ সভাপতি গোবিন্দ দেব গিরিজি মহারাজ গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কার্যনির্বাহী সভাপতি অলোক কুমার, মন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান নৃপেন্দ্র মিশ্র এবং আরএসএস নেতা কুলভূষণ আহুজা।
গত শুক্রবার পাটনায় সমর্পণ নিধি সংগ্রহ অভিযোন শুরু করেন বিজেপি নেতা সুশীল মোদী। তিনি বলেন, "আশা করি বিহারের প্রত্যেক হিন্দু পরিবার একটি সুন্দর মন্দির নির্মাণের জন্য অনুদান দেবে। আমি নিশ্চিত, মন্দির গড়তে যে অর্থ প্রয়োজন, তা জনগণের থেকেই পাওয়া যাবে।"
সুশীল মোদীকে প্রশ্ন করা হয়, বিহারের অন্যান্য অঞ্চলেও কি অনুদান সংগ্রহ করা হবে? তিনি বলেন, নিশ্চয়। পরে তিনি বলেন, "যদি মসজিদ তৈরি করা হত, তাহলে আশা করা হত যে, মুসলমানরা অনুদান সংগ্রহ করবেন। এক্ষেত্রে যেহেতু ভগবান রামচন্দ্রের মন্দির তৈরি হচ্ছে, তাই হিন্দুদেরই দায়িত্ব নিতে হবে।"
বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা ১০, ১০০ এবং ১০০০ টাকার কুপনে হিন্দু পরিবার থেকে চাঁদা চাইছেন। ট্রাস্ট স্থির করেছে, সরকার, কোনও বিদেশি সংস্থা অথবা কর্পোরেট সংস্থার থেকে অনুদান নেওয়া হবে না।
গত বছর স্বামী গোবিন্দদেব গিরিজি মহারাজ জানিয়েছিলেন, মন্দির নির্মাণে কমবেশি ১১০০ কোটি টাকা খরচ হবে। মূল মন্দিরটি নির্মাণ করতে খরচ হবে ৩০০-৪০০ কোটি টাকা।