দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেলের অভিনব উদ্যোগ, যাকে স্বাগত জানাচ্ছে সকল দেশবাসী। করোনা আবহে যখন গোটা দেশ থমকে গিয়েছে, তখন নীরবে লড়াই করেছে ভারতের ডাক বিভাগ। দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে টাকা।
এবার সেই জিনিস পৌঁছনোর উদ্যোগেই সামিল হচ্ছে ভারতীয় রেলও। শুধুমাত্র পার্সেল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আলাদা করে ট্রেনের ব্যবস্থা করছে রেল দফতর। এর মধ্যে আবার কৃষকদের জন্যও রয়েছে আলাদা ট্রেন, যেখানে শুধুমাত্র কৃষক ও কৃষিজ পণ্যের আনা নেওয়া করা হবে।
গ্লোবালাইজেশনের যুগে বেশ কয়েক বছর ধরেই সরকারি ব্যবস্থার ওপর থেকে ভরসা হারিয়ে মানুষ ঝুঁকছেন বেসরকারি সংস্থাগুলোর দিকে। কিন্তু বেসরকারি কুরিয়ার, পার্সেল ভ্যানের সঙ্গে বরাবরই পাল্লা দিয়েছে ভারতের ডাক বিভাগ। তার প্রমাণ হাতে হাতে পেয়েছে মানুষ লকডাউনের মধ্যে। এবার সেই পার্সেল যাতে আরও ভাল ভাবে পৌঁছয়, তার জন্য উদ্যোগী রেল।
'গুডস-শেড' খোলা হচ্ছে ট্রেনে। ২৪টি পার্সেল ভ্যান লোড করার ওপরে রেল কর্তৃপক্ষ ছাড়ও দিচ্ছে। পার্সেলের ব্যবসার উন্নতিরর জন্যই এই উদ্যোগ। এছাড়াও জানা গেছে, যে পার্সেল ভ্যান ও ট্রেনগুলো মাল পৌঁছে দিয়ে খালি ফিরছে, তাদেরও কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে রেলের তরফ থেকে।
পাশাপাশি, পার্সেল আদানপ্রদানের ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার জন্য 'পার্সেল টার্মিনাল' গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রেল দফতর থেকে। রেল মন্ত্রক এ বিষয়ে একটি পাইলট প্রকল্পও ঘোষণা করেছে। সেই মতো, সাঙ্গোলা (মধ্য রেলওয়ে জোন), কাচেগুড়া (দক্ষিণ রেলওয়ে জোন), কোয়েম্বত্তূর (দক্ষিণ রেলওয়ে অঞ্চল), কাঁকরিয়া (পশ্চিম রেলওয়ে অঞ্চল)-কে পাইলট প্রকল্পের কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই সমস্ত পার্সেল ভ্যান যে শুধুমাত্র চিঠিপত্রই বহন করে এমন নয়, কোভিড ১৯ টেস্টিং কিট থেকে মাস্ক, জরুরি পণ্য সমস্ত কিছুই এক শহর থেকে অন্য শহরে, রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পৌঁছে দিচ্ছে। তাই বলা যায়, করোনা যুদ্ধেও একরকম ভাবে সামিল হল ভারতীয় রেল।
রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, পার্সেলের ব্যবসাকে বাড়ানোর জন্য ই-পেমেন্ট ও ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তিনি উত্তর-পূর্ব অঞ্চল ও পার্বত্য অঞ্চলের ট্র্যাফিক মুভমেন্টকে নিয়ন্ত্রণের কথা বলেন। পার্সেল স্পেশ্যাল ট্রেন একেবারে নির্দিষ্ট সময়েই যাতায়াত করবে বলে জানানো হয়েছে ভারতীয় রেল দফতরের তরফ থেকে।
গ্রাহকরা যাতে ট্রেন পরিষেবার ওপরে আরও বেশি আস্থা রাখেন, সে দিকেই এবার নজর সরকারের।