
মহম্মদ সেলিম, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং শতরূপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 23 November 2024 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় সাম্প্রতিক আরজি কর আন্দোলনের সঙ্গে অনেকটাই সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছিল বামেরা। শাসক দল ধারাবাহিক ভাবে অভিযোগ করছিল যে, আরজি কর আন্দোলনে বামেরাই পিছন থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। এখন কৌতূহলের বিষয় হল, রাজ্যে ৬টি বিধানসভা আসনের ভোটে বামেদের ভোট কি বাড়ল? নাকি কমে গেল? কোথায় দাঁড়িয়ে তারা?
চব্বিশের লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার লোকসভার মাদারিহাট আসনে বামেরা পেয়েছিল মাত্র ৪০৪৩টি ভোট। মাদারিহাটে বরাবরই লড়ত আরএসপি। এবার তারাই প্রার্থী দিয়েছে। উপ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে আরএসপি মাত্র ৩৪১২টি ভোট পেয়েছে।
উত্তরবঙ্গে কোচবিহারের সিতাই বিধানসভারও উপ নির্বাচন ছিল। এই আসনে প্রার্থী ছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের। সিতাইতে গত লোকসভা ভোটে বামেরা পেয়েছিল ২১৬২টি ভোট। এবার তারা পেয়েছে ৩৩১৯টি ভোট। কংগ্রেসের প্রার্থী হরিহর রায়সিংহ বরং বাম প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি তথা ৯১৭৭টি ভোট পেয়েছেন।
সিতাইতে বামেদের হাজার খানেক ভোট বাড়লেও তা কমে গেছে নৈহাটিতে। আরজি করের নির্যাতিতার বাড়ি সোদপুরে। নৈহাটি থেকে সোদপুরের দূরত্বও বেশি নয়। একই জেলা। তা ছাড়া নৈহাটি হল শহর এলাকা। কিন্তু এহেন নৈহাটিতে বামেদের ভোট লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় অনেক কমে গেছে। লোকসভা ভোটে আরজি করে সিপিএম পেয়েছিল ১৪৯২৫টি ভোট। এবার সেখানে সিপিআইএম (লিবারেশন) প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৭৫৯৩টি ভোট। অর্থাৎ লোকসভার তুলনায় অর্ধেক ভোট পেয়েছেন বামেরা।
মেদিনীপুর বিধানসভায় লোকসভা ভোটে বামেদের প্রাপ্ত ভোট ছিল ১১১৮৩। এবারও কমবেশি তাই রয়েছে। সেখানে বামেরা পেয়েছে ১১৮৯২টি ভোট।
হাড়োয়ায় বামেরা প্রার্থীই দেয়নি। তারা কৌশলে আসনটি আইএসএফকে ছেড়ে দিয়েছে। লোকসভা ভোটে হাড়োয়ায় সিপিএম পেয়েছিল ৭৪৭০টি ভোট। এবার আইএসএফ সেখানে পেয়েছে ২৫৬৮৪টি ভোট।
একমাত্র তালড্যাংরায় সিপিএমের ভোট সামান্য বেড়েছে। লোকসভা ভোটে তালড্যাংরায় সিপিএম পেয়েছিল ১৬৫২৫টি ভোট। এবার সেখানে তারা প্রায় ২০ হাজার ভোট পেয়েছে।
চুম্বকে ৬ মাস আগে বাংলায় বামেরা যেখানে ছিলেন, সেখানেই রয়েছেন। আরজি করের ঘটনা, তা নিয়ে আন্দোলন, প্রতিবাদ, অসন্তোষ থেকে তারা কোনও শক্তিরস সংগ্রহ করতে পারেনি। বা সাংগঠনিক দিক থেকেও প্রভাবি বা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি যা তাদের ভোট বাড়াতে পারে। উপ নির্বাচনের ফলাফল তাই শুধু সিপিএমকে হয়তো হতাশ করবে না, সামগ্রিক ভাবে বামপন্থীদের কাছেও এই ফলাফল বেশ নিরাশাজনক হতে পারে।