
শেষ আপডেট: 5 January 2024 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির ঘটনায় উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাতে গিয়ে এলাকার মানুষের রোষের মুখে পড়েন ইডি আধিকারিকরা। তাঁদের মারধরও করা হয়, মাথা ফাটে ইডির অফিসারদের। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিলেন তিনি।
শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সন্দেশখালিতে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, ইডি আধিকারিকরা নিয়োগ দুর্নীতির সূত্র ধরে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে পৌঁছতে। শাহজাহানের বাড়ির দরজা বন্ধ ছিল। ইডি আধিকারিকরা অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনও উত্তর পাননি। তারপরই তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তাঁরা। সেই সময়ই শাহজাহানের অনুগামীরা এসে ঘিরে ফেলেন ইডি অফিসারদের।
উত্তেজিত জনতার দাবি, আগে থেকে খবর না দিয়ে কেন আচমকা এমন হানা দিল ইডি। মারমুখী জনতার হাতে মার খান ইডি অফিসাররা। মাথা ফেটে যায় অফিসারদের। ইডির গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। শেষ পর্যন্ত শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি না করেই কলকাতায় ফিরতে হল তাঁদের।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু টুইট করে নিন্দা করেছেন। বাংলার আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সেই একই পথে হেঁটে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু। তিনি বলেন, 'রাজ্যে আইনের শাসন নেই। গোটা শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।'
দিব্যেন্দু আরও বলেন, 'কোর্টের নির্দেশে তদন্ত করতে গিয়ে বাংলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসাররা মার খাচ্ছেন।' পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তমলুকের সাংসদ। তাঁর কথায়, 'পুলিশ ইডি আধিকারিকদের উদ্ধার করতেও যায়নি। অবিলম্বে কেন্দ্র সরকার হস্তক্ষেপ করুন। আইনি পদক্ষেপ করুন।' সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে অমিত শাহকে চিঠি দেন দিব্যেন্দু। এমনকী রাজ্যপালকেও চিঠি দেবেন বলে জানান তিনি।
শুক্রবারের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ও। তিনি পর্যবেক্ষণে জানান, 'পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রাজ্যপাল কেন ঘোষণা করছেন না।' সেইসঙ্গে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ভরা এজলাসে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।
অন্যদিকে, তৃণমূলও ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সন্দেশখালির ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলেন। পাশাপাশি, তিনি প্ররোচনার অভিযোগও তুলেছেন। কুণালের কথায়, 'কেন এমন ঘটনা ঘটছে তা বুঝতে হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সি বেছে বেছে রোজ তৃণমূল নেতাদের বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে। তারপর সেখানে গিয়ে প্ররোচনা দিচ্ছে।'