
দিব্যেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 16 December 2024 20:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন সেই রবি ঠাকুরের ছোট গল্পের সংজ্ঞার মতো! শেষ হয়েও হইল না শেষ! ভোট মিটলেও কাঁথির সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচন নিয়ে টানাপড়েন অব্যাহত।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নজিরবিহীনভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে রবিবার কাঁথিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সমবায়ের ভোট। এলাকাটি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এই ভোটকে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির দু'তরফের সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে ফল প্রকাশ হতে দেখা যায়, ভোটে জেতা তো দূরে থাক বিজেপি কার্যত খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে। সমবায়ের প্রতিনিধি নির্বাচনে মোট ১০৮টি আসনের মধ্যে ১০৪টিতেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ভোট নিয়েই এবার বড় কারকুপির অভিযোগ আনলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই তথা বিজেপির জেলা নেতা দিব্যেন্দু অধিকারী।
সোমবার টেলিফোনে দ্য ওয়ালকে দিব্যেন্দু বলেন, "সুপ্রিম কোর্ট ভোটার লিস্ট ত্রুটি মুক্ত করতে বলেছিল। অথচ ভুরি ভুরি মৃত ও জাল ভোটার রেখে, তাতে করেই সমবায়ের দখল নিল তৃৃণমূল।"
এ ব্যাপারে আদালতে যাওয়া নিয়েও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছেন বিজেপির জেলা নেতারা। নিজের দাবির স্বপক্ষে দিব্যেন্দু বলেন, "আমার নিজের কাকা মিহির অধিকারী। এক বছর দু'মাস আগে তিনি মারা গিয়েছেন। কাকা সমবায়ের ১ নম্বর কেন্দ্রের ৬ নম্বর সিরিয়ালে ভোটার ছিলেন। ভোট দিতে গিয়ে ইলেক্টরেলে দেখি কাকার সিরিয়ালের ওপর দাগ, মানে ভোট দিয়েছেন। আমি প্রিসাইডিং অফিসারকে জিজ্ঞেস করি, উনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে এসেছিলেন, ভোট দিয়ে গিয়েছেন! ভাবুন, কোন লেবেলে জালিয়াতি!"
দিব্যেন্দুর মতো একই অভিজ্ঞতা হয়েছে কাঁথির বাসিন্দা শ্যামল দাসের। শ্যামলবাবুর বাবা হরেকৃষ্ণ দাস মারা গিয়েছেন এক যুগ আগে। বাবা-ছেলে দু'জনেই সমবায়ের ভোটার। রবিবার শ্যামলও ভোট দিতে গিয়ে দেখেছেন তাঁর মৃত বাবার ভোট পড়েছে! কটাক্ষের সুরে শ্যামল বলেন, "১২ বছর পরে বাবা ভোট দিতে পৃথিবীতে এলেন! যদি একটিবার বাড়িতেও দেখা করে যেতেন।"
দিব্যেন্দু বলেন, "ভোটার লিস্টে কারচুপি করেই এভাবে সমবায়ের দখল নিয়েছে শাসকদল।" যদিও বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতা, এগরার বিধায়ক অখিল গিরি বলেন, "বিজেপির দাবি মেনে তো কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ভোট হল। তারপরেও ওরা এসব কথা বলে কী করে? আসলে মানুষের রায়কে বিজেপি মেনে নিতে পারছে না, তাই তৃণমূলকে গালাগালি করতে গিয়ে আসলে মানুষকেই গালাগালি করছে।"
পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় সমবায় ব্যাঙ্ক হল কাঁথি। অবিভক্ত মেদিনীপুরের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এই সমবায়েরব শাখা। ফলে দুই মেদিনীপুরের বহু ভোটার জড়িয়ে এই সমবায়ের ভোটের সঙ্গে। মাঝে ৩ বছর ভোট হয়নি। ফলে দু'তরফের কাছেই সমবায়ের ভোট হলেও এটি ছিল প্রেস্টিজের লড়াই।
সূত্রের দাবি, সম্প্রতি সমবায়ের ভোট ঘিরে শাসকের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীকোন্দলও মাথা চাড়া দিয়েছিল। বিষয়টি আন্দাজ করে সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরে গিয়ে অখিল গিরিকে মূল দায়িত্বে রেখে সমবায়ের অধীনে থাকা এলাকার প্রতিটি বিধায়ককে ভোট পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই কোন্দল ভুলে শাসকের ঐক্যের ছবি সামনে এসেছিল।
তবে বিরোধী দলনেতার খাসতালুকে ভোটে জিতেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না শাসককে। কাঁথি সমবায় নিয়ে বিজেপি আদালতে যায় কিনা, এখন সেটাই দেখার।