
শেষ আপডেট: 13 October 2023 19:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: হোয়াটসঅ্যাপে স্ত্রীকে ফোন করে বাড়িতে ফিরে আসতে বলেছিলেন। তারপরে শোওয়ার ঘর থেকে পাওয়া গেল যুবকের ঝুলন্ত দেহ! এই ঘটনা ঘিরে শুক্রবার শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছে রায়দিঘির ইস্তারণপুর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্র জানা গিয়েছে, মৃতের নাম বিজন পাইক। ২৬ বছরের বিজনকে এদিন সকালে বাড়ি থেকেই মৃত অবস্থা পাওয়া যায়। পরিবার জানিয়েছে, অশান্তি করে বিজনের স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপ কল করেছিলেন তিনি। রাতে ঘর বন্ধ করে শুয়ে পড়েন বিজন। সকালে অনেকক্ষণ তিনি ঘরের দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। এরপরেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে দরজায় ঠেলা মেরে আত্মীয়রা ঘরে ঢুকতে দেখেন গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন বিজন। খবর দেওয়া হয় রায়দিঘি থানায়। তারা ঘটনাস্থলে এসে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মৃতের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, বিজনের যে তরুণীর সঙ্গে প্রেম ছিল তাঁকেই আট বছর আগে বিয়ে করেন বিজন। দুজনের ৫ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরে দম্পতির মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। তাই স্বামী ও সন্তানকে রেখে বাপেরবাড়িতে চলে যান বিজনের স্ত্রী।
জানা গিয়েছে, একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন বিজনের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর লোকজন দম্পতিকে অফিসে ডেকে পাঠান। বিজন তাঁর ঠাকুমাকে নিয়ে ওই অফিসে পৌঁছেছিলেন। স্ত্রীও তাঁর বাপের বাড়ির লোকজনকে নিয়ে উপস্থিত হন।
ছেলের মৃত্যুর পর বিজনের আত্মীয়দের অভিযোগ, ওই দিন স্বনির্ভর গোষ্ঠী অফিসে বিজনের স্ত্রী ও তাঁর আত্মীয়রা জোর করে তাকে দিয়ে একটি কাগজে সই করিয়ে নেন। তাতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বিজন। ফোনে তিনি স্ত্রীকে বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ করেন। তারপরদিনই ওই যুবকের দেহ পাওয়া যায়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই যুবক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।