
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 3 April 2025 09:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাথরপ্রতিমার ঘটনায় (Patharpratima Blast) সচেতনতার অভাবকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করেছে পুলিশ। বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে একই কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)। তবে ওই বাজি কারখানার বৈধ লাইসেন্স ছিল কী ছিল না, তা নিয়ে একটা ধন্দ তৈরি হয়েছে। তবে ঢোলাহাট থানার আইসি-র (Dholahat IC) করা মামলায় যা উল্লেখ করা হয়েছে তা বিস্ফোরক।
বণিক পরিবারের বাজি কারখানার কোনও লাইসেন্স ছিল না। বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারের পাশে বেআইনি বাজি মজুত করে রাখা ছিল। সেই মজুত বাজি থেকেই বিস্ফোরণ হয়! ঢোলাহাট থানার আইসি দেবাশিস রায়ের করা স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় এই তথ্যের উল্লেখ রয়েছে বলে সূত্রের খবর। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, ওই বাজি কারখানার লাইসেন্স ছিল এবং যা হয়েছে তা সচেতনতার অভাবে হয়েছে। কিন্তু ঢোলাহাট থানার আইসি-র রিপোর্ট সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলছে। আর তাতেই বিতর্ক।
রাজ্য পুলিশের তরফে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার বলেছিলেন, এটা দুর্ঘটনা। গত ১০ বছর ধরে এই বাজি কারখানা চলছিল। তবে তাদের কী লাইসেন্স ছিল, কারখান বৈধ না অবৈধ, কীসের ভিত্তিতে বাজি মজুত থাকত, গোটা বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে আগে বাজি থেকে আগুন লেগেছে, তারপর গ্যাস সিলিন্ডার ফেটেছে, নাকি গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন লেগে তারপর মজুত রাখা বাজিতে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটা স্পষ্ট নয়। ফরেন্সিক দল তা পরীক্ষা করে জানাবে। সেই রিপোর্ট আসার আগেই এমন তথ্য সামনে এল যা চাঞ্চল্যকর।
নবান্নর সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল, ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাসের এই সময়টায় আগুন লাগার প্রবণতা বাড়ে। তাঁর খারাপ লাগছে এইভাবে একটা গোটা পরিবার শেষ হয়ে গেল। এই বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'গ্যাস সিলিন্ডার আর বাজি কি এক সঙ্গে থাকা উচিত?' মমতা মনে করেন, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত সকলের।
বাজি কারখানায় যাতে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা হয় সেই আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, এক জায়গায় দাহ্য পদার্থ রাখলে যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যম ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ সতর্কবার্তা ছড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সরকার সবরকমভাবে প্রস্তুত এই ধরনের বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে।