
শেষ আপডেট: 14 October 2023 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ শনিবার মহালয়া। ভোর থেকেই কানে আসছে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই চেনা কণ্ঠ। মহিষাসুরমর্দিনীর অনুষ্ঠান শেষ হতেই পিতৃতর্পণ করে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মানুষজন। আকাশে বাতাসে আগমনীর সুর, মা আসছেন যে! আর মাত্র ৭ দিনের অপেক্ষা। কিন্তু হিরাপুর থানার ধেনুয়া গ্রামের ঠাকুরবাড়িতে আজকেই আগমনীর আলো, আবার আজকেই বিষাদের সুর। সে বাড়িতে এই দিনেই উমার বোধন, এই দিনেই বিসর্জন।
আসলে বাঙালির দুর্গাপুজো ৪ দিনের উৎসব হলেও পশ্চিম বর্ধমানের হিরাপুর থানার অন্তর্গত ধেনুয়া গ্রামের ঠাকুর পরিবারে গত ৫০ বছর ধরে যে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে তা মাত্র একদিনের। সেই ১৯৭৩ সালে পুজোর প্রচলন হয়েছিল, তখন থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিবছর মহালয়ার দিনেই দেবীকে নানা উপাচারে তুষ্ট করে তারপর বিদায় দেওয়া হয়। কালীকৃষ্ণ সরস্বতী ঠাকুরের হাত ধরে প্রথম সূচনা হয়েছিল এই পুজোর। কালীকৃষ্ণ ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ পণ্ডিত। অত্যন্ত ধার্মিক এই মানুষটি সবসময় গ্রামের উন্নতির জন্য কাজ করতেন। তাঁর কাছে দুর্গাপুজো ছিল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান যা গ্রামের সমস্ত মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সেই বিশ্বাস থেকেই গ্রামের সকলের সঙ্গে আলোচনা করে ১৯৭৩ সালে কালীকৃষ্ণ সরস্বতী ঠাকুর মহালয়ার দিনে ধেনুয়া গ্রামে একটি দুর্গাপুজো করার সিদ্ধান্ত নেন। পুজোর সমস্ত আয়োজন একা হাতেই করেন তিনি। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তৈরি হয় ছোট একটি মন্দির। সেখানে নিজেই মূর্তি তৈরি করে প্রতিষ্ঠা করেন কালীকৃষ্ণ। শুরু হয় দুর্গাপুজো।
বেশ কয়েক বছর সাফল্যের সঙ্গে দুর্গাপুজো করে আসার পর মৃত্যু হয় কালীকৃষ্ণের। তবে ঐতিহ্যবাহী সেই পুজো বন্ধ হতে দেননি তাঁর পুত্র তরুণ সরস্বতী ঠাকুর। বাবার আদর্শ অনুসরণ করে তিনি আরও সাড়ম্বরে দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন, যা এখনও চলছে। ধীরে ধীরে গ্রাম-গ্রামান্তরে লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে এই অদ্ভুত দুর্গাপুজোর কথা। সারা রাজ্য থেকে উৎসাহী মানুষজন এই পুজো দেখতে আসেন প্রত্যেক বছর।
একদিনের এই দুর্গাপুজোর কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। যেমন, মা এখানে সিংহবাহিনী, মহিষমর্দিনী নন। এখানে তিনি বাঙালির আদরের মেয়ে উমা, যে বছরে মাত্র ১ বার ১ দিনের জন্য পিত্রালয়ে আসে। তবে ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে আনেন না দশভুজা। বদলে, তাঁর সঙ্গে মর্ত্যে আসেন দুই সখী জয়া ও বিজয়া। মহালয়ার দিন ধেনুয়ার মানুষ দেবীর আরাধনা করেন। স্থানীয় শিল্পীরাই তৈরি করেন প্রতিমা। পুজোর পর এই দিনেই বিসর্জন দেওয়া হয় মাকে।