
শেষ আপডেট: 22 February 2024 09:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার গভীর রাত অবধি সন্দেশখালির আনাচ কানাচে বাইক নিয়ে টহল দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। মাঝরাতে খুলনা ঘাটের দিকে যেতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কী কারণে তিনি সেদিকে গিয়েছিলেন তা কেউ জানে না। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ফের সন্দেশখালিতে টহল দিতে দেখা গেছে তাঁকে। এদিন সকালে পূর্ত দফতরের বাংলো থেকে বেরিয়ে ধামাখালি লঞ্চ ঘাটের দিকে যান তিনি। আবার ফিরে আসেন সন্দেশখালিতে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি বলেন, “আমাদের সঙ্গে যেন মানুষ সহযোগিতা করেন। নিজের হাতে আইন কেউ যেন তুলে না নেয়। যারা যারা আইন ভেঙেছেন তাঁদের প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হবে।”
সূত্রের খবর, সকাল ৮টা নাগাদ পূর্ত দফতরের বাংলো থেকে বের হন রাজীব কুমার। তারপর লঞ্চে উঠে টহল দিতে বেরনোর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। ডিজি বলেছেন, “সন্দেশখালির লোকজনের সঙ্গে কথা বলতেই এসেছি। আমাদের যা যা করণীয়, অবশ্যই আমরা সব করব। সকলের সমস্যা শোনার চেষ্টা করছি। সমাধানের চেষ্টাও হবে। শুধু বলছি, আইন নিজের হাতে নেবেন না। কারও যদি কোনও অভিযোগ থাকে আমাদের বলুন। আমরা রয়েছি সব সমস্যা সমাধান করার জন্য। যারা আইন ভেঙেছেন তাদের প্রত্যেকে গ্রেফতার হবে।”
এলাকার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার আগে এডিজি (সাউথ বেঙ্গল) সুপ্রতীম সরকার ও বসিরহাট পুলিশ জেলার এসপি হোসেন মেহেদি রহমানের সঙ্গে একপ্রস্ত বৈঠক করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি। তারপরই কখনও নদীপথে লঞ্চে করে, কখনও টোটোয় চেপে গ্রামে গ্রামে ঘুরেছেন রাজীব কুমার। বুধবার দুপুরে ধামাখালি থেকে লঞ্চে করে সন্দেশখালিতে পৌঁছন ডিজি-সহ পদস্থ পুলিশ কর্তারা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতেও ডিজির এই সফর বলে জানা গেছে। জানা গেছে, গতকাল গভীর রাত অবধি বাইক নিয়ে সন্দেশখালির আনাচ কানাচে ঘুরেছেন রাজীব কুমার। খুলনা ঘাটের দিকেও নাকি যেতে দেখা গেছে তাঁকে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তপ্ত সন্দেশখালি। এই প্রথম সেই এলাকায় গেলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি। সন্দেশখালিতে গিয়ে প্রথমেই থানায় চলে যান ডিজি। ইতিমধ্যেই নবান্ন ১০ পুলিশকর্তার একটি টিম তৈরি করে দিয়েছে। তাঁরাও গ্রামে গ্রামে ঘুরে অভিযোগ নিচ্ছেন।
শেখ শাহজাহানের ডেরায় অভিযান চালাতে গিয়ে ৫ জানুয়ারি আক্রান্ত হয়েছিলেন ইডির অফিসাররা। সেই ঘটনার ৪৭ দিন পর সন্দেশখালিতে এসেছেন রাজীব কুমার। মূলত, নদী সংলগ্ন দ্বীপগুলিতে নজরদারি চালান তিনি। তারপর ফিরে আসেন বাংলোয়। রাত ১০টা নাগাদ ফের বের হন তিনি। টোটোয় করে এলাকা ঘোরেন। তাঁর সঙ্গে বাইকে চড়়ে এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন কয়েকজন পুলিশও। পুলিশকে গভীর রাত পর্যন্ত সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায় সন্দেশখালিতে।