দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলের মৃত্যুশোকের পাথর চেপে বসেছিল বুকে। বারে বারেই জ্ঞান হারাচ্ছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবা। এই শোক বড় নির্মম হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা পরিবারের কাছেই। তরতাজা, হাসিখুশি ছেলেটা এভাবে চিরদিনের মতো চুপ করে যাবে মেনে নিতে পারেননি কেউই। সোমবার রাতে মুম্বইয়ে যখন সুশান্তের শেষকৃত্য সম্পন্ন হচ্ছে, বিহারের পূর্ণিয়ার গ্রামের বাড়িটাতে তখন অন্ধকার নেমেছে। ছোট দেওরের অকাল মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে চিরদিনের মতো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন আরও একজন। তিনি সুশান্তের বৌদি সুধা দেবী।
সোমবার রাতেই বিহারের বাড়িতে সুধা দেবীর মৃত্যুর হয়েছে বলে জানিয়েছে সুশান্তের পরিবার। তিনি ছিলেন অভিনেতার এক তুতো ভাইয়ের স্ত্রী। সুশান্তের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছনোর পরে থেকেই শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন। এই আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে ভয়ঙ্কর ট্রমার মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল। পরিবার জানিয়েছে, সে দিনের পর থেকে খাওয়াদাওয়া ছেড়েছিলেন সুধা দেবী। সবসময় একটা ঘোরের মধ্যে থাকতেন। বাড়ির সকলের প্রিয় ছোট ছেলেটা যে আর নেই, সেটা মেনে নিতে পারছিলেন না কিছুতেই। গতকাল রাতে সুশান্তের শেষকৃত্যের সময়েই তাঁর মৃত্যু হয়।
গত ১৪ জুন বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে অভিনেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই তোলপাড় দেশ। প্রাথমিক তদন্তে মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বললেও উঠে এসেছে আরও নানা অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি, তবে সুশান্তের সহকর্মী ও বন্ধুদের মারফৎ যেটুকু খবর সামনে এসেছে তাতে অনুমান দীর্ঘ সময় ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলিউডের ‘ছিঁছোড়ে’ সুশান্ত সিং রাজপুত। শেষকৃত্যের আগে রবিবার মুম্বইয়ের ডক্টর আর এন কুপার মিউনিসিপ্যাল জেনারেল হাসপাতালে অভিনেতার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ জানান, মৃত্যুর কারণ অ্যাসফেক্সিয়া (Asphyxia) । এমন একটা পরিস্থিতি যখন প্রচণ্ড চাপে দমবন্ধ হয়ে আসতে শুরু করে। শ্বাস-প্রশ্বাস প্রায় থেমে যায়, শরীরে অক্সিজেন ঢোকা বন্ধ হয়ে যায়। অ্যাসফেক্সিয়ার কারণেই হাইপোক্সিয়া দেখা দেয় যার প্রভাবে সমস্ত শরীরের কোষ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর। কাজেই গলায় ফাঁসের কারণেই সুশান্তের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ।
সুশান্ত সিংয়ের মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা নাকি অন্য রহস্য লুকিয়ে আছে সেই নিয়ে নানা মহলে নানা কথা উঠেছে। সুশান্তেরই মামা বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে আত্মহত্যা নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে তাঁর ভাগ্নেকে। যদিও এই বিষয়ে কোনও প্রামাণ্য তথ্য দিতে পারেননি তিনি। তাই আপাতভাবে আত্মহত্যার ঘটনা মনে হলেও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ এই মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গতকালই সুশান্তের ফ্ল্যাটে গিয়ে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারী অফিসাররা। খতিয়ে দেখা হয়েছে অভিনেতার মোবাইলের কল লিস্ট। এই ঘটনায় সুশান্তের দুই বন্ধু মহেশ শেট্টি ও রীহা চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। জানা গেছে, মৃত্যুর আগে রবিবার দুপুরে তিনি শেষ ফোনটা তাঁর বন্ধু ও একসময়ের সহকর্মী মহেশ শেট্টিকেই করেছিলেন। তবে সেই ফোন লাগেনি, রিং হওয়ার আগেই নাকি ফোন কেটে দেন সুশান্ত। তাঁর দুই ম্যানেজার ও বোনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সুশান্ত, এমন কথাও উঠেছে। তিনি যে ক্নিনিকে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন সেখানকার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, তিনি অবসাদের কারণে মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছিলেন ঠিকই তবে কোনও ওষুধ খাননি। এই মানসিক অবসাদের কারণ পেশাজনিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এমন অভিযোগও উঠেছে। সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে বিস্ফোরক আরও এক বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত সিনে দুনিয়ার ‘এলিট ক্লাব’-এর বিরুদ্ধে নেপোটিজম বা স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলেছেন। উঠে এসেছে করণ জোহর, আলিয়া ভাটের মতো অভিনেতাদের নামও।