
দেউলি গ্রাম পঞ্চায়েতে টাকা নেওয়ার রসিদ
শেষ আপডেট: 22 April 2025 16:18
কাজল বসাক, নদিয়া
বাংলা আবাস যোজনার ঘরের টাকা ঢুকতেই ৬০০ টাকা করে কেটে নেওয়া হয়েছে প্রাপকদের কাছ থেকে। পঞ্চায়েতের উন্নয়ন ফি হিসেবে। এমনই অভিযোগ উঠল নদিয়ার দেউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই বেশ কিছু কুপন পঞ্চায়েত জমা নিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এখনও অনেক মানুষের কাছেই রয়েছে সেই সমস্ত কুপন। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
মঙ্গলবারেই মেদিনীপুরের প্রশাসনিক সভায় মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় মনে করিয়ে দেন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার জন্য কেউ টাকা চাইলে সোজা থানায় গিয়ে এফআইআর করতে। মুখ্যমন্ত্রীর এমন কড়া মনোভাবের পরেও যে অবস্থা পাল্টায়নি তারই প্রমাণ মিলল নদিয়ার দেউলি গ্রাম পঞ্চায়েতে।
নদিয়ার দেউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের রুসল্লাপুর এলাকায় খেটে খাওয়া মানুষের বাস। বেশিরভাগ মানুষই টিনের চালের বাড়িতে বসবাস করেন। একেবারে নিম্নবিত্ত মানুষগুলিও ছাড় পেলেন না। বাংলা আবাস যোজনার টাকা ঢুকতেই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর কাছে ৬০০ টাকা করে নেওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠল।
দেউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ছ'শো টাকা ট্যাক্স মারফত কেটে নিয়ে উপভোক্তাদের বাড়ির প্ল্যান দেওয়া হয়েছে। পরে অবশ্য বিষয়টি ভুল করেছেন বলেও দাবি করেন পঞ্চায়েত প্রধান। উল্টোদিকে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য পুরো ঘটনার তদন্ত হওয়া দরকার।
মেদিনীপুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, "আবাসে ১ নম্বর থাকা সত্ত্বেও গত ৩ বছর ধরে কেন্দ্র টাকা দেয়নি, বাংলার গরিব মানুষরা বঞ্চিত হচ্ছিলেন। তাই আমরা নিজেরাই ওই বাড়ি তৈরি করে দেব বলেছিলাম। আমরা কথা দিলে সেই কথা রাখতে জানি।" এরপরেই তিনি বলেন, "সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে কাউকে এক পয়সাও দেবেন না। কেউ যদি চায়, থানায় গিয়ে এফআইআর করবেন, এটা মানুষের অধিকার।"
যেদিন মুখ্যমন্ত্রী মেদিনীপুরে এই কথা বলছেন, সেদিনই নদিয়ায় সামনে এল বাংলা আবাস যোজনার টাকা থেকে ৬০০ টাকা করে কেটে নেওয়ার অভিযোগ।