
ফ্লেক্স তৈরি করে চলছে প্রচার
শেষ আপডেট: 12 July 2024 21:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় প্রশাসন ও তৃণমূল কংগ্রেস মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, প্রায়শই এমন অভিযোগ তুলে থাকেন বিরোধী দলের নেতারা। সেই অভিযোগেই এবার যেন সিলমোহর দিল রাজ্যের কৃষি দফতর! রীতিমত ফ্লেক্স তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির প্রচার চালানো হচ্ছে।
শুক্রবার শহিদ দিবসের প্রচারের ছবি ধরা পড়েছে জামালপুর ব্লক সহ কৃষি অধিকর্তার দফতরে ঢোকার দরজার সামনে। যেখানে ঝোলানো রয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সহযোগে তৈরি ২১ জুলাইয়ে শহিদ সভার সমর্থনে ফ্লেক্স। যার নীচে বড় বড় অক্ষরে লেখা, “প্রচারে- কৃষি দফতর , জামালপুর ব্লক, পূর্ব বর্ধমান।” আর সেই ফ্লেক্স নিয়েই তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন বিরোধীরা ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বছরের পর বছর ২১ জুলাই কলকাতার ধর্মতলায় শহিদ স্মরণ সভার আয়োজন করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে বাংলায় ক্ষমতায় আসে ঘাসফুল শিবির। তারপর থেকে তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি আরও ব্যাপকভাবে পালন করা হয়।
সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে বাংলার ২৯ আসনে জয়লাভের পর ২১ জুলাইকে সামনে রেখেই হতে চলেছে তৃণমূলের প্রথম বড় জনসভা। সভায় রেকর্ড জমায়েত করার জন্যে পূর্ব বর্ধমান সহ রাজ্যের জেলায় জেলায় চলছে জোরদার প্রচার। তা দেখেই যেন অতি উৎসাহিত পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের কৃষি দফতর! তারাও তৃণমূলের শহিদ দিবসের প্রচারের জন্যে ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি করে একেবারে দফতরের সামনেই ঝুলিয়ে দিয়েছে।
এদিকে কৃষি দফতরের রাজনৈতিক দলের প্রচারে নামা নিয়ে জামালপুর ব্লকের কৃষি আধিকারিক সঞ্জিবুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,“কাঙ্খিত নয়। ওইরকম ফ্লেক্স সরকারি দফতরে ঝোলানোটা ঠিক কাজ হয়নি। আমি জানতাম না। বিষয়টি জানার পরেই আমি ওই ফ্লেক্স দফতরের দেওয়াল থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।“ যদিও জামালপুর ব্লকের তৃণমল বিধায়ক অলক মাঝির দাবি,“বিতর্ক তৈরি করতে কেউ চক্রান্ত করে এমন ফ্লেক্স কৃষি দফরের দেওয়ালে ঝুলিয়ে দিয়ে থাকতে পারে।“
তবে কৃষি দফতরের কর্তারা এবং তৃণমূল বিধায়ক পাত্তা না দিলেও বিষয়টিকে হালকাভাবে নিতে নারাজ বিরোধীরা। এই বিষয়ে জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “বাংলায় প্রশাসন ও তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি যে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে সেটা আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি। তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক কর্মর্সূচি নিয়ে খোদ জামালপুর ব্লক কৃষি দফতরের ফ্লেক্স তৈরি করে প্রচারে নামা সেটাই প্রমাণ করে দিল যে আমাদের অভিযোগ সত্য। বাংলার প্রশাসন এখন তৃণমূলের দলদাস।”