দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার আমেরিকার জর্জিয়ায় সেনেটের একটি আসনে জয়ী হল ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে সেনেটকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। জর্জিয়ার ওই আসনে জয়ী প্রার্থী হলেন রেভারেন্ড রাফায়েল ওয়ারনক। দীর্ঘ ন'সপ্তাহ ধরে প্রচার চালানোর পরে খুব অল্প ব্যবধানে ওই আসনটি পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। পরে ওয়ারনক সমর্থকদের বলেছেন, "আমি যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা পালন করব। সেনেটে গিয়ে আমি কাজ করব পুরো জর্জিয়ার স্বার্থে।"
জর্জিয়ায় অপর আসনটিও যদি ডেমোক্র্যাটরা পায়, তাহলে সেনেটে তাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ কায়েম হবে। এখন তারা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে রিপাবলিকানদের চেয়ে সামান্য পিছিয়ে আছে। ৫১ বছর বয়সী ওয়ারনকের আগে জর্জিয়া থেকে মাত্র দু'জন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত আমেরিকান সেনেটে নির্বাচিত হয়েছেন। ওয়ারনকের বিপক্ষে প্রার্থী ছিলেন কেলি লোয়েফলার।
জর্জিয়ার দ্বিতীয় আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর নাম জন ওসওফ। তাঁর ক্যাম্পেন ম্যানেজার বলেন, সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ওসওফের জেতার সম্ভাবনা প্রবল। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে ০.২২ শতাংশ এগিয়ে আছেন।
জর্জিয়া প্রদেশটি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। সকলকে চমকে দিয়ে দুই দশক পরে গত নভেম্বরে সেখানে জেতেন বাইডেন। তারপর থেকে সেখানে ডেমোক্র্যাটদের জয়যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
সেনেটের যে আসনটিতে ওয়ারনক জয়ী হয়েছেন, সেখানে ভোট পড়েছিল ৪৪ লক্ষ। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়েছেন ৪৬,৫৫১ ভোটে। বাইডেন ভোটের আগে টুইট করে বলেছিলেন, 'জর্জিয়া, সারা দেশ তোমার দিকে তাকিয়ে আছে।'
আগামী ২০ জানুয়ারি আমেরিকার নয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার নেবেন জো বাইডেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করবেন প্রথম দক্ষিণ এশীয় আমেরিকান, কৃষ্ণাঙ্গী কমলা হ্যারিস। ভোট প্রচারের সময় থেকেই এশীয়-আমেরিকানদের বিশেষ প্রাধান্য দিয়েছে বাইডেন শিবির। হোয়াইট হাউসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও এশীয়দেরই জয়জয়কার। অশ্বেতাঙ্গ মানুষজনের প্রতিনিধি হয়ে বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ের মুখ হয়ে উঠেছেন কমলা হ্যারিস।
ভাবী প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজেই বলেছেন তাঁর সামনে এখন দুই জোড়া ঐতিহাসিক সঙ্কট, যার মোকাবিলা করা তাঁর কর্তব্য। এর মধ্যে রয়েছে করোনা অতিমহামারী, দেশজোড়া বেহাল অর্থনীতি, বর্ণবৈষম্য এবং জলবায়ু বদল। বর্ণবৈষম্য ঘোচাতে ইতিমধ্যেই কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়কে টিকা নিতে উৎসাহ দিচ্ছে বাইডেন শিবির। দেশের সব জায়গায় করোনা টিকার সমবন্টন হবে বলেও ঘোষণা করেছেন বাইডেন। ফাইজারের টিকা প্রথম নিয়েছেন এক কৃষ্ণাঙ্গী নার্স। এর ফলে কৃষ্ণাঙ্গদের কাছে বিশেষ বার্তা পাঠাতে চেয়েছে মার্কিন প্রশাসন।