
গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 9 May 2025 18:22
সুমন বটব্যাল
গত সপ্তাহেও যেখানে ৯০ টাকা লিটারে কেরোসিন (kerosene oil) বিক্রি হয়েছে, সেখানে রাতারাতি লিটার পিছু কেরোসিনের দাম বেড়ে গিয়েছে প্রায় ৩০ টাকা। বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন খোলা বাজারে লিটার পিছু কেরোসিন বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২৫ টাকা দরে। কেরোসিনের পাশাপাশি হঠাৎ করে বাজারে চাহিদা বেড়েছে হ্যারিকেন এবং লম্ফর।
কেন?
কাশ্মীরের পহেলগামে (Kashmir, pahalgam) জঙ্গি হামলার পর থেকেই প্রত্যাঘাত পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। যার জেরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে (India Pakistan Tension) বাড়ছে উত্তেজনা। সেই সূত্রে অনেকের স্মৃতিতেই উঁকি দিচ্ছে ৭১ এর যুদ্ধের ঘটনা। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সেই সূত্রে বাজারে চাহিদা বাড়ছে কেরোসিন তেল এবং হ্যারিকেনের!
কলকাতার মানিকতলা থেকে মেদিনীপুর, ব্যান্ডেল থেকে বজবজ, বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থেকে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ, সর্বত্রই রাতারাতি বেড়ে গিয়েছে কেরোসিন তেল এবং হ্যারিকেনের চাহিদা! কেন? ইতিমধ্যে দেশ জুড়ে মকড্রিল হয়েছে। হয়েছে ব্ল্যাক আউটও। অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর সীমান্তে উত্তেজনার বহরও বেড়েছে। এমন আবহে হঠাৎ করে যদি যুদ্ধ ঘোষণা হয়, তাহলে রাতের বেলা দীর্ঘ সময় শহর জুড়ে লোডশেডিং চলতে পারে। এলাকা বিশেষে জারি করা হতে পারে, ব্ল্যাক আউট।
কথা হচ্ছিল ব্যান্ডেল স্টেশন লাগোয়া সাইকেলের দোকানদার সঞ্জয় রক্ষিতের সঙ্গে। আদতে সাইকেল সারাইয়ের দোকান হলেও খুচরো কেরোসিনও বিক্রি করেন তিনি। বললেন, "অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে কেরোসিনের চাহিদা আচমকা বেড়ে গেছে। জোগানে টান থাকায় বেড়েছে দামও।" তিনি এও জানালেন, যেখানে সারা মাসে ১০ লিটার কেরোসিন বিক্রি হত, সেখানে গত দেড় দিনেই বিক্রি হয়েছে ১৫ লিটার কেরোসিন।
শুধু ব্যান্ডেল নয়, মেদিনীপুর থেকে বনগাঁ, সর্বত্রই খোলা বাজারে হু হু করে বাড়ছে কেরোসিন তেলের দাম। সেই সূত্রে বাজারে হ্যারিকেন, লম্ফ বিক্রিও বেড়ে গিয়েছে। মানিকতলার ব্যবসায়ী শ্যামসুন্দর দাসের কথায়, "শেষ ৬ মাসে ২টো হ্যারিকেন বিক্রি হয়েছিল। সেখানে বৃহস্পতিবারই বিক্রি হয়েছে ৪টে হ্যারিকেন। অর্ডার দিয়ে গিয়েছেন আরও ১১ জন!"
দমদমের বাসিন্দা শুভ্র সরকারের বয়স ৬৯। '৭১ এর যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৪। বলছিলেন, "তখন সন্ধেয় এলাকার পর এলাকায় ব্ল্যাক আউট চলতো। দরজা, জানালা বন্ধ করে ঘরের মধ্যে বসে থাকতে হত। ভরসা বলতে ছিল ওই হ্যারিকেনের আলো। সময় থাকতে প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। বলা তো যায় না, সীমান্তের পরিস্থিতি তো সেদিকেই এগোচ্ছে।"