দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনার যতগুলি ভ্যারিয়ান্ট আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট। এই ভ্যারিয়ান্ট করোনা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের অনেক ধারণা বদলে দিয়েছে। ১০ জন প্রথম সারির কোভিড বিশেষজ্ঞ সোমবার এমনই জানিয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে কড়াকড়ি শিথিল করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভাইরোলজিস্ট ও এপিডেমোলজিস্টদের বক্তব্য, ভ্যাকসিন নিলে কোভিডে কেউ গুরুতর অসুস্থ হন না। তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ারও দরকার হয় না। যাঁরা ভ্যাকসিন নেননি, তাঁদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ভ্যারিয়ান্ট খুব সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তার মানে এই নয় যে, কেউ ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হলে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যান্য ভ্যারিয়ান্টের চেয়ে ডেল্টা টিকা নেওয়া মানুষের শরীরে সহজে সংক্রমিত হয়। এর নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। মাইক্রোবায়োলজিস্ট শ্যারন পিকক বলেন, “এখন বিশ্বের সামনে সবচেয়ে বড় বিপদের নাম ডেল্টা।”
কোভিড বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যতদিন ডেল্টা সম্পর্কে আরও বেশি জানা না যাচ্ছে, ততদিন মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখতে হবে। ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য দফতর শুক্রবার জানায়, ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৬৯২ জন। তাঁদের মধ্যে ৫৮.৩ শতাংশ ভ্যাকসিন নেননি। ভ্যাকসিন নিয়েছেন ২২.৮ শতাংশ।
শুক্রবার সিঙ্গাপুর প্রশাসন জানায়, করোনা আক্রান্তদের তিন চতুর্থাংশ টিকা নিয়েছিলেন। তবে তাঁদের কেউ গুরুতর অসুস্থ হননি। আমেরিকার স্বাস্থ্য দফতরের অফিসাররা বলেছেন, সেদেশে যাঁরা নতুন করে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের ৮৩ শতাংশের শরীরে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট পাওয়া গিয়েছে।
ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট প্রথমে চিহ্নিত হয় ভারতে। ওই ভ্যারিয়ান্টের জন্য দেশে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। সেক্ষেত্রে দৈনিক ৪ থেকে ৫ লক্ষ মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন কোভিডে, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকারের উদ্দেশে বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ, কোনওভাবেই দৈনিক সংক্রমণ ৫০ হাজারের গণ্ডি ছাড়াতে দেওয়া যাবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে গোটা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি একবার ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায় কোভিডের দৈনিক সংক্রমণ তবে আবার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতোই মারাত্মক আকার ধারণ করবে অতিমহামারী।
কীভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে ভাইরাসের মোকাবিলা করা যাবে? উত্তর একটাই, টিকাকরণ। এ পর্যন্ত ৪০ কোটির বেশি টিকার ডোজ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে দেশে। কিন্তু তা আরও বাড়াতে হবে। টিকা নেওয়ার ফলেই সংক্রমণ অনেকটা আয়ত্তে এসেছে বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, টিকা নেওয়ার সঙ্গে যথাযথ সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলা, মাস্ক ও স্যানিটাইজারের নিয়মিত ব্যবহার আবশ্যক।