দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হচ্ছে কিনা জানতে রাজধানীতে সেরো সার্ভে শুরু হয়েছে জুন মাস থেকেই। সেরো টেস্টের দ্বিতীয় দফার রিপোর্ট সামনে এসেছে সম্প্রতি। সেই রিপোর্টে স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলছেন, দিল্লিতে মহিলাদের শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি বেশি তৈরি হয়েছে। পুরুষদের থেকেও বেশি। অর্থাৎ এই রিপোর্টে বোঝা গেছে, ভাইরাসের মোকাবিলায় মহিলাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি পুরুষদের থেকে বেড়েছে।
রক্তে আইজিজি অ্যান্টিবডি দেখে বলে দেওয়া যায় সেই ব্যক্তি সংক্রামিত কিনা। অ্যান্টিবডি টেস্ট করার এই প্রক্রিয়াকেই বলে সেরো সার্ভে। এই পরীক্ষা করলে বোঝা যায় করোনা সংক্রমণ কতজনের মধ্যে এবং কী পরিমাণে ছড়িয়েছে। গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে কিনা সেটাও ধরা যায় সেরো সার্ভেতেই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উদ্যোগে দিল্লিতে এই সেরো সার্ভে চালাচ্ছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি)।গত ২৭ জুন থেকে সেরো সার্ভে শুরু হয় দিল্লিতে। ১১ টি জেলায় এই সার্ভে চালানো হয়েছিল গত ১০ জুলাই অবধি। করোনার উপসর্গ রয়েছে এমন রোগী, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা বা সংক্রমণের সন্দেহে থাকা রোগীদের অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়।
প্রথম দফায় সেরো টেস্টের রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল দিল্লিতে মাত্র ২৩.৪৮% শতাংশ মানুষের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় দফার রিপোর্টে কিছুটা আশা জাগে। দেখা যায় দিল্লির জনসংখ্যার ২৯.১ শতাংশ মানুষের রক্তে অর্থাৎ প্রায় এক তৃতীয়াংশ বাসিন্দার শরীরেই করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি মিলেছে। অর্থাৎ প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষের করোনা হয়ে সেরেও গিয়েছে।
দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন বলেছেন, সেরো সার্ভের রিপোর্টে দেখা গেছে ৩২.২ শতাংশ মহিলার শরীরে করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ২৮.৩ শতাংশ পুরুষের শরীরে মিলেছে করোনার অ্যান্টিবডি। সেদিক থেকে মহিলাদের শরীরে ভাইরাসের মোকাবিলায় জোরালো রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, যে মহিলাদের শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি বেশি, তাঁদের অনেকে বুঝতেও পারেননি যে তাঁরা সংক্রামিত হয়েছিলেন। অনেকের ক্ষেত্রে সংক্রমণের বাহ্যিক লক্ষণ বা উপসর্গও দেখা যায়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনের বক্তব্য, ইতিবাচক দিক হল দিল্লির ২৯ শতাংশ মানুষ করোনা সারিয়ে উঠেছেন এবং প্রত্যেকের রক্তেই পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তবে হার্ড ইমিউনিটি এখনই তৈরি হচ্ছে সেটা বলতে রাজি নন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। জৈন বলেছেন, মোট জনসংখ্যার ৪০-৭০ শতাংশের শরীরে ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেলেই বুঝতে হবে ধীরে ধীরে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হচ্ছে। তবে এখনও সেই লক্ষণ দেখা যায়নি।
গত ১ অগস্ট থেকে দিল্লিতে দ্বিতীয় দফায় সেরো সার্ভে শুরু হয়েছিল। চলেছিল ৭ অগস্ট অবধি। মোট ১৫ হাজার জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সমীক্ষা বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ মানুষের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমে এই সংখ্যা কিছুটা কম, ১২.৯৫ শতাংশ। উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ২৯ শতাংশ ও দক্ষিণে ২৭ শতাংশের শরীরে ভাইরাসের মোকাবিলায় অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে।
জুন মাস থেকে দিল্লিতে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টও শুরু হয়েছে। দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া জানিয়েছেন, ১৯৩টি সেন্টারে করোনা পরীক্ষার জন্য অ্যান্টিজেন টেস্ট কিট ব্যবহার করা হচ্ছে। করোনা রোগীদের সংস্পর্শে আসা বা করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে এমন ৭ হাজারের বেশি মানুষের অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়েছে। দিল্লির সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে সমস্ত কোভিড টেস্ট সেন্টারগুলিতে আরটি-পিসিআর, ট্রু্ন্যাট টেস্টের পাশাপাশি অ্যান্টিজেট টেস্টও করা হচ্ছে।