দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকালে গাঢ় ধোঁয়াশা, সন্ধে থেকেই ঝেঁপে বৃষ্টি নেমেছিল দিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকায়। কিন্তু তাতে দূষণের মাত্রা কমেনি। শুক্রবার সকাল থেকে ফের দৃশ্যমানতা কমেছে হুহু করে। ধোঁয়াশায় ঢেকেছে চারদিক। মাস্ক পরে রাস্তায় নামতে দেখা গেছে লোকজনকে। সকাল সাড়ে ৯টার পরে বাতাসের গুণগত মানের সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ৪১৮।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সাতদিনের মধ্যে আজ রেকর্ড জায়গায় পৌঁছে গেছে রাজধানীর দূষণ পরিস্থিতি। এন-৯৫ বা পি-১০০ মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে বাসিন্দাদের। জাতীয় রাজধানী এলাকায় এদিনে একিউআই ৪১৮, দিল্লির চাঁদনী চক এলাকায় একিউআই ৪৪৮, পিএম ২.৫। লোধি রোডে একিউআই ৩১৮, গ্রেটার নয়ডায় ৪২২, ফরিদাবাদে ৩৯৮।
এনভায়রনমেন্ট কন্ট্রোল অথরিটি (ইপিসিএ)জানিয়েছে, দিওয়ালির পর থেকেই রাজধানীতে দূষণ সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়েছে। আতসবাজির ধোঁয়া,পার্শ্ববর্তী দুই রাজ্য পঞ্জাব ও হরিয়ানায় শস্যের গোড়া পোড়ানো, গাড়ি ও কলকারখানার ধোঁয়ায় জেরবার দিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকা। এয়ার কোয়ালিটি মনিটর করার সরকারি সংগঠন SAFAR জানিয়েছে, বাতাসের গুণগত মানের সূচক বা একিউআই ৩০১-৪০০-র মধ্যে থাকলে তাকে বলে ‘ভেরি পুওর’ আর ৪০০ ছাড়িয়ে গেলে সেটাই হয়ে ওঠে ‘সিভিয়ার’ বা অতি বিপজ্জনক। পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর দূষণের মাত্রাটা অন্যান্য বারের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
এয়ার কোয়ালিটি মনিটর করার সরকারি সংগঠন SAFAR জানিয়েছে, ধীরপুরে বাতাসের গুণগত মানের সূচক অতি বিপজ্জনক। সেখানে এদিন সকাল ১০টার পর থেকে একিউআই পৌঁছেছে ৪৫৬-তে। মথুরা রোডের একিউআই ৪০৪, এয়ারপোর্ট ৩ নম্বর টার্মিনালের কাছে ৪৪৮।

দূষণে জেরবার দিল্লির লাগোয়া এলাকায় চাষের জমিতে খড় পোড়ানো নিয়ে একটি মামলা দায়ের করেছিল এনভায়রনমেন্ট কন্ট্রোল অথরিটি (ইপিসিএ)। গত মাসে সুপ্রিম কোর্টে দূষণ মামলার শুনানিতে হরিয়ানা, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লি সরকারের প্রতিনিধিদের বিচারপতি অরুণ মিশ্র ও দীপক গুপ্তর বেঞ্চ জানায়, কোনও রাজ্য থেকে ফসলের গোড়া পোড়ানোর খবর পাওয়া গেলে সেই রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে যে গ্রামে তা পোড়ানো হচ্ছে তার পঞ্চায়েত প্রধান— সকলকেই জবাবদিহি করতে হবে। বেলাগাম দূষণে জেরবার দিল্লিবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিতে রাজধানীতে কয়েক বছর ধরেই চলছে গাড়ির জোড়-বিজোড় ফর্মুলা। দূষণ অত্যধিক মাত্রায় বেড়ে গেলে এক দিন জোড় সংখ্যার গাড়ি এবং পরের দিন বিজোড় সংখ্যার গাড়ি রাস্তায় নামার অনুমতি মেলে। কিন্তু সেই ফর্মুলায় যে বিশেষ কোনও লাভ হয়নি সেটাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। পঞ্জাব-হরিয়ানায় খড় পোড়ানোর বড় ভূমিকা রয়েছে দিল্লির দূষণে। সেটা বন্ধেও এ দিন কড়া নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।