দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজধানী দিল্লিতে কোভিড সংক্রমণের সংখ্যা এখন গত দু'মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এই পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে আনলকের প্রক্রিয়া শুরু করল অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল বলেছেন, যদি সংক্রমণের সংখ্যা বর্তমান হারে কমতে থাকে, তাহলে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসবে। আমরা এক বিরাট ট্র্যাজেডির মধ্যে রয়েছি। আমাদের সকলকে যৌথভাবে তার মোকাবিলা করতে হবে।
রাজধানীতে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষায়তন আপাতত বন্ধ থাকছে। রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক জমায়েতের ওপরে নিষেধাজ্ঞাও বহাল থাকছে। সুইমিং পুল, জিম, স্পা, পার্ক ও গার্ডেনও বন্ধ থাকছে। পাবলিক হলে বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান করা বন্ধ থাকছে। মেট্রো রেল চালু হয়েছে। তবে মোট আসন সংখ্যার ৫০ শতাংশ যাত্রী ট্রেনে উঠতে পারছেন। অটো রিকশ ও ট্যাক্সিতে দু'জন করে যাত্রী তুলতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
মার্কেট কমপ্লেক্সগুলি সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা আটটা পর্যন্ত খোলা থাকছে। রেস্তোরাঁও খোলা থাকছে। সেখানে মোট আসন সংখ্যার ৫০ শতাংশ খদ্দের ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সেলুন ও সাপ্তাহিক বাজারগুলিও খুলে যাবে। প্রতি এলাকায় একটি বাজারই খুলতে অনুমতি দেওয়া হবে। শহরে ধর্মস্থাওগুলিও খুলতে অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে দর্শনার্থীদের যেতে অনুমতি দেওয়া হবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৪২১। এপ্রিল থেকে এই প্রথম এত কম হল সংক্রমণের সংখ্যা। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৯২১ জনের। কোভিডের নিম্নমুখী গ্রাফ খানিকটা স্বস্তিদায়ক সপ্তাহের গোড়ার দিনেই। এই নিয়ে সব মিলিয়ে দেখে কোভিড সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ কোটি ৯৫ লক্ষ ১০ হাজার ৪১০ এবং মৃতের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭৪ হাজার ৩০৫।
সংক্রমণের সংখ্যা কমার পাশাপাশি কমছে পজিটিভ রেটও। ১০০ জনের টেস্ট করা হলে তার মধ্যে পজিটিভ রেজাল্ট আসার সংখ্যা ৫-এরও নীচে রয়েছে গত সাত দিন ধরে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই অঙ্ক ৪.৭১ শতাংশ।
এই মুহূর্তে দেশে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি তামিলনাড়ুতে। ১৪ হাজার ১০৬ জন আক্রান্ত সেখানে। তার পরে আছে কেরল। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৫৮৪ জন। তার পরেই আছে মহারাষ্ট্র। সে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৪৪২।