
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 14 April 2025 10:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লক্ষ্মীবাই কলেজ (Laxmibai college, Delhi) নিয়ে সরগরম সমাজমাধ্যম। কলেজের অধ্যক্ষার (Principal) একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে মত দিয়েছেন বহু মানুষ।
অধ্যক্ষ প্রত্যুষ ভাটসালা কলেজের কয়েকটি ক্লাস রুমের দেওয়ালে গোবর লেপে (coated classroom wall with cow dung) দিয়েছেন। কলেজের এক কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে অধ্যক্ষা নিজেই এই কাজে হাত লাগান। তারপর গোবর লেপার ভিডিও কলেজের শিক্ষকদের গ্রুপে শেয়ার করলে সেখান থেকে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় সমর্থন, নিন্দার ঝড়।
একজন শিক্ষক সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘কলেজের অধ্যক্ষা যদি এমন আজগুবি কাজে ব্যস্ত থাকেন তাহলে সেখানে ছেলেমেয়েরা পড়তে আসবে কেন! তারা তো নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে পয়সা খরচ করে পড়তে আসে।’ আর একজন লিখেছেন, ‘কলেজে গোবর ঢুকেছে। এরপর গো-মুত্র পান করতে বলা হবে। বিশ্বগুরু হওয়া আর ঠেকায় কে!’ তবে বহুজন অধ্যক্ষার ওই কাজের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে তিনি নিজেই গোবর লেপার কাজে নেতৃত্ব দেওয়ায়।
সমাজমাধ্যমে সমালোচনার মুখে অধ্যক্ষার জবাব, কেউ কিছু না জেনে, না বুঝে সমালোচনা শুরু করে দিল। গোবর লেপা হয়েছে, একটি গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসাবে। ক্লাস রুম ঠান্ডা রাখতে গোবরের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। এটা একটা গবেষণা প্রকল্পের অংশ। প্রাচীন ভারতীয় পদ্ধতি অনুসরণ করে কীভাবে দিল্লির মতো জায়গায় অসহ্য গরম থেকে রেহাই মিলতে পারে, সেটাই গবেষণার বিষয়। গোবর হল এই কাজে অত্যন্ত উপযোগী বস্তু।
কলেজেরও কেউ কেউ ক্লাসরুমের দেওয়ালে গোবর লেপায় আপত্তি তুলেছেন। প্রিন্সিপ্যাল এক বার্তায় বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি গবেষণার বিষয়ে বিশদে জানাবেন। তাঁর দাবি, দেওয়ালে গোবর লেপে দেওয়ায় তাপমাত্রা কমে আসবে। তাতে পঠনপাঠন ভাল হবে।
ঘর ঠান্ডা রাখতে গোবরের উপকারিতা অজানা নয়। এখনও গ্রামে বহু মানুষ মাটির সঙ্গে গোবর মিশিয়ে বাড়িঘর বানায়। গোবর তাপ নিরোধক। একই সঙ্গে জীবাণু নাশক। উত্তর ভারতে অনেকে গরমের সময় গাড়ির ছাদে গোপর লেপা চাদর বিছিয়ে দেয়। আবার শীতের সময় ঘর গরম রাখতে সাহায্য করে গোবরের প্রলেপ। এই কাজে গোবরের ব্যবহার বাড়ানোই গবেষণা প্রকল্পটির উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত কলেজটি ১৯৬৫ সালে স্থাপিত হয়। সেটি সরাসরি দিল্লি রাজ্য সরকার পরিচালনা করে।