দ্য ওয়াল ব্যুরো : সারা দেশের মধ্যে এখন রাজধানী দিল্লিতেই কোভিড সংক্রমণ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য মিলছে না বেড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। অনেকে এমনও বলছেন, যেভাবে দূষণ বাড়ছে, তাতে কোভিডের মোকাবিলা করতে হলে লকডাউনই একমাত্র উপায়। সরকারের বক্তব্য, উৎসবের মরসুমে অনেকেই মাস্ক পরছেন না। মানছেন না সামাজিক দূরত্বের বিধি। তাই সংক্রমণ বেড়েছে।
ফর্টিস সি ডক হসপিটালের চেয়ারম্যান অনুপ মিশ্র বলেন, "পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাতদিন আংশিক লকডাউন করলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ওই দিনগুলিতে মেট্রো এবং বাস পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।"
গত রবিবার দিল্লিতে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৭৭৪৫ জন। তার আগে শুক্রবার আক্রান্ত হন ৭১৭৮ জন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের ন্যাশনাল কোভিড টাস্ক ফোর্সের সদস্য গিরিধর আর বাবু বলেন, দেশের বিভিন্ন মেগা সিটিতে যতজন কোভিডে সংক্রমিত হয়েছেন, তাঁদের ৪৪ শতাংশ দিল্লির মানুষ। তাঁর মতে, দিল্লিতে যথাযথ টেস্টিং হয়নি। কোভিড মোকাবিলার প্রচেষ্টায় নানা গলদ ছিল।
গিরিধর বাবু তথ্য দিয়ে দেখান, দিল্লিতে মৃত্যুহার বেড়েছে। আগে প্রতি ১০ লক্ষে মারা যাচ্ছিলেন ২৯২ জন। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৯। দিল্লিতে মৃত্যুর হার মুম্বইয়ের পরেই। আইসিএমআর কর্তার মতে, দিল্লিতে কোভিড রোগীদের হোম আইসোলেশনের পলিসি খতিয়ে দেখা দরকার। তবে তিনি লকডাউনের বিরোধী। তাঁর বক্তব্য, এর আগে লকডাউন করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়নি।
ম্যাক্স হেলথকেয়ারের গ্রুপ মেডিকেল ডিরেক্টর সন্দীপ বুধিরাজা বলেন, দিল্লিতে সংক্রমণের হার বেড়েছে ১৫.২৬ শতাংশ। যদিও মৃত্যুর হার এখনও এক শতাংশের কম। হাসপাতালগুলি কোভিড রোগীদের স্থান দিতে হিমসিম খাচ্ছে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি) থেকে অক্টোবর মাসেই দিল্লি সরকারকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, শীতে সংক্রমণ ব্যাপক বাড়তে পারে। দিল্লিতে প্রতি বছর শীতে অনেকে শ্বাসকষ্টে ভোগেন। তার ওপরে উৎসবের সময়ে বাইরে থেকে অনেকে আসবেন রাজধানীতে। আগামী শীতে প্রতিদিন ১৫ হাজার মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হবেন ধরে নিয়ে প্রস্তুত হতে হবে দিল্লিকে।
নীতি আয়োগের সদস্য তথা চিকিৎসক ভি কে পালের নেতৃত্বে একটি এক্সপার্ট গ্রুপ গঠন করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তার নির্দেশেই দিল্লি সরকারকে সতর্ক করে এনসিডিসি। তারা বলে, আক্রান্তদের এক পঞ্চমাংশের দেহে সংক্রমণ হবে মাঝারি বা গুরুতর। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। দিল্লি সরকার যেন সেজন্য প্রস্তুত থাকে।