অনাহারে মৃত শিশুদের মা পুলিশকেই বলছেন, খেতে দাও
দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার সকালে তিন শিশুকন্যাকে নিয়ে হাসপাতালে হাজির হয়েছিলেন এক মা। ডাক্তাররা দেখেন, তিনজনই মারা গিয়েছে। পুলিশ মহিলাকে জিজ্ঞাসা করল, ওরা মারা গেল কীভাবে? তিনি কোনও জবাব না দিয়ে বললেন, আমাকে কিছু খেতে দাও। সন্তানদের মতো তিন
শেষ আপডেট: 26 July 2018 10:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার সকালে তিন শিশুকন্যাকে নিয়ে হাসপাতালে হাজির হয়েছিলেন এক মা। ডাক্তাররা দেখেন, তিনজনই মারা গিয়েছে। পুলিশ মহিলাকে জিজ্ঞাসা করল, ওরা মারা গেল কীভাবে? তিনি কোনও জবাব না দিয়ে বললেন, আমাকে কিছু খেতে দাও। সন্তানদের মতো তিনিও দীর্ঘদিন খেতে পাননি।
খোদ রাজধানী দিল্লিতে তিন শিশুকন্যা অনাহারে মারা যাওয়ার পরে লালবাহাদুর শাস্ত্রী হাসপাতালের সুপার অমিত্র সাক্সেনা জানিয়েছেন, তারা আটদিন কিছু খায়নি। মৃতদেহগুলির সুরতহাল করে বোঝা গিয়েছে, অনাহারেই মৃত্যু হয়েছে তাদের। ময়না তদন্তে দেখা গিয়েছে, শরীরে চর্বির চিহ্নমাত্র নেই। পাকস্থলী একেবারেই ফাঁকা। আর এক ডাক্তার বলেছেন, আমি ১৫ বছর এই হাসপাতালে প্র্যাকটিস করছি। এমন কখনও দেখিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েগুলির বাবা নিখোঁজ। হয়তো দূরে কোথাও কাজের সন্ধানে গিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এসে পড়বে। তারা যে ঘরে থাকত সেখানে কয়েকটি ওষুধের বোতল ও ডায়েরিয়ার ট্যাবলেট পাওয়া গিয়েছে। ছোট দুই বোন সম্ভবত কয়েকদিন ধরেই ডায়রিয়ায় ভুগছিল। তাদের বয়স চার ও দুই। বড় বোনের বয়স আট। সে স্কুলে যেত। তার মিড ডে মিল পাওয়ার কথা। সে কেন অনাহারে মারা গেল জানা যাচ্ছে না।
অনাহারে মৃত্যুর খবর পেয়েই মেয়েগুলির বাড়িতে হাজির হয়ে গিয়েছেন কংগ্রেস ও বিজেপির প্রতিনিধিরা। দুই দলই দোষ দিয়েছে দিল্লির কেজরিওয়াল সরকারকে।
বিজেপির মনোজ তেওয়ারি বলেছেন, অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। আমি রাজনীতি করতে চাই না। এখানে একটাই কথা বলার আছে। কেন্দ্রীয় সরকার ভর্তুকিতে খাদ্যশস্য দেয়। সেই খাবার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। কংগ্রেসের অজয় মাকেন বলেছেন, সরকার এবং পুরো সিস্টেমের ব্যর্থতায় এমন হয়েছে।
দিল্লির শাসক দল আম আদমি পার্টির সঞ্জয় শর্মা বলেছেন, আমাদের সরকার এক বছর ধরে চেষ্টা করছে যাতে বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়া যায়। সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজেপি।