দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে দিল্লিতে। এবছরের বর্ষায় রাজধানীতে এত ভারী বৃষ্টিপাত আর কখনও হয়নি। শহরের নিচু এলাকায় জমে গিয়েছে জল। অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এদিন সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত আয়ানগর অঞ্চলে ৯৯.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পালামে ৯৩.৬ মিলিমিটার ও রিজ অঞ্চলে ৮৪.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সফদরজং অবজারভেটরিতে ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃষ্টির দিনে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জলমগ্ন শহরের ছবি পোস্ট করেছেন। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে দ্বারকা রেলস্টেশনের আন্ডারপাসে জল জমে আছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, হাইকোর্টের কাছেই এক জায়গায় উল্টে পড়েছে গাছ। তাতে রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সারা দিনই আকাশের মুখ ভারী থাকবে। দু'-এক পশলা ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দিল্লিতে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল ৩৫ শতাংশ। গত ১০ বছরে রাজধানীতে এত ঘাটতি দেখা যায়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে ঘাটতি অনেকাংশে মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিন আবহাওয়া দফতরের এক অফিসার জানান, দিল্লি ও তার আশপাশের অপর দিয়ে একটি মৌসুমি অক্ষরেখা বিস্তৃত হয়ে আছে। দক্ষিণ-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ওপরে রয়েছে একটি ঝঞ্ঝা। আরব সাগর থেকে আসা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা পূবালী হাওয়ায় বাতাসে বেড়েছে আর্দ্রতা।
https://twitter.com/ANI/status/1293712237669101568
এরই মধ্যে জানা যায়, বুধবার থেকে বড় ধরনের দুর্যোগের কবলে পড়েছে উত্তরাখণ্ডের কয়েকটি জেলা। প্রবল বৃষ্টিতে ধস নেমে বন্ধ রয়েছে গঙ্গোত্রী জাতীয় সড়ক। বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে চিন সীমান্তের কয়েকটি অঞ্চল। গঙ্গা বইছে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার অপর দিয়ে। গঙ্গার শাখানদী হেনওয়ালের জলস্তরও বেড়েছে। নদীর ধারে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সারদা নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় চামপাওয়াত জেলায় সারদা বাঁধেও বেড়েছে জল। ব্যারেজ ম্যানেজমেন্ট দফতরের এক অফিসার বলেছেন, "আমরা পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখছি। নদীর জল যেভাবে বেড়েছে তাতে উত্তরাখণ্ডের দু'টি ও উত্তরপ্রদেশের ১০ টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে।"
আবহবিদরা বলেছেন, আগামী দু'-তিনদিনে আরও প্রবল বৃষ্টির কবলে পড়তে পারে উত্তরাখণ্ড। তাতে কয়েকটি পাহাড়ি নদীতে হড়পা বান দেখা দিতে পারে। কেন্দ্রীয় জল কমিশন একটি টুইটে বলেছে, "আগামী ২৪ ঘণ্টায় হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থানের পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যপ্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে হড়পা বান দেখা দিতে পারে।" উত্তরাখণ্ড বাদে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও উত্তরপ্রদেশেও আগামী দু'-তিনদিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।