দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ফেব্রুয়ারি উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক হিংসায় রতন লাল নামে এক পুলিশ কমিশনার মারা যান। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত করার সময় জানা গেল দিল্লির দাঙ্গা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দাঙ্গার আগে রাজধানীতে রটে গিয়েছিল, বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের অনুগামীরা নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভ মঞ্চে আগুন লাগিয়েছে। এই গুজবের জেরেই দিল্লির একটি অংশে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে।
হেড কনস্টেবল রতনলাল দয়ালপুর থানার কাছে উত্তেজিত জনতার হাতে খুন হন। জায়গাটা জাফরাবাদ থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। দিল্লির দাঙ্গা জাফরাবাদ থেকেই শুরু হয়েছিল। পুলিশ চার্জশিটে উল্লেখ করেছে, যাঁরা পথে নেমে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাঁদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, জাফরাবাদে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনের মঞ্চে কপিল মিশ্রের লোকেরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি কপিল মিশ্র মৌজপুর অঞ্চলে নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে মিছিল বার করেন। জায়গাটি জাফরাবাদ থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে।
আন্দোলনের মঞ্চে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে গুজব ছড়ানোর পরেই উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে। রতন লাল দয়ালপুরে উত্তেজিত জনতাকে থামানোর চেষ্টা করছিলেন। তখনই তিনি আক্রান্ত হন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, গুজব ছড়িয়েছিল, কপিল মিশ্রের লোকেরা আন্দোলনের মঞ্চে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা তেমন কিছু দেখতে পাইনি।
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, স্বরাজ ইন্ডিয়ার প্রধান যোগেন্দ্র যাদব চাঁদবাগে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভাষণ দেন। যদিও তাঁর নাম অভিযুক্তদের তালিকায় নেই। দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে সর্বশেষ যে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে, তাতে বিজেপি নেতাদের উত্তেজক ভাষণের কথাও উল্লেখ নেই। কপিল মিশ্র একটি ভাষণে দিল্লি পুলিশকে চরমপত্র দিয়েছিলেন, হয় তারা রাস্তা খালি করে দিক, নাহলে তিনি নিজে অনুগামীদের নিয়ে পথে নামবেন।
কপিল মিশ্রের ওই ভাষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দিল্লিতে দাঙ্গা লাগে। ৫০ জনের বেশি মারা যান।