দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিড (Covid) ঠেকাতে এখন প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার রাত ১০ টা থেকে সোমবার ভোর পাঁচটা পর্যন্ত দিল্লিতে (Delhi) কার্ফু (Curfew) জারি করা হয়। কিন্তু গত কয়েকদিনে দিল্লিতে কমেছে কোভিড সংক্রমণ। তাই দিল্লি সরকার লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বাইজালের কাছে প্রস্তাব করল, সপ্তাহ শেষের কার্ফু এবার তুলে দেওয়া হোক। এখনও পর্যন্ত দিল্লির দোকানগুলি জোড়-বিজোড় সংখ্যা অনুযায়ী খোলা থাকে। বাজারে ভিড় কমাতে ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবার সেই নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিতে চলেছে দিল্লি সরকার। বেসরকারি অফিসগুলিকে বলা হয়েছিল, সম্ভব হলে কর্মীরা যেন বাড়ি থেকে কাজ করেন। এবার তাদের বলা হয়েছে, অফিসে ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করা যাবে।
দিল্লি সরকার নির্দেশ দিয়েছিল, সপ্তাহ শেষের কার্ফুর সময় কেবল যাঁরা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত তাঁরাই বেরোতে পারবেন। তাঁদের কাছে সরকারের পাস বা পরিচয়পত্র থাকতে হবে। কার্ফুর সময় মুদিখানা, ওষুধের দোকান ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান ছাড়া সব বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৩০৬ জন। তার আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় সংক্রমণের এই হার ১০.৭২ শতাংশ কম। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে মারা গিয়েছেন ৪৩ জন। এর আগে গতবছর জুন মাসে একইদিনে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া রাজধানীতে আর কখনও ২৪ ঘণ্টায় এতজন মারা যাননি।
গত ১৪ জানুয়ারি দিল্লিতে ৩০ হাজার মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হন। ওই দিনই রাজধানীতে অতিমহামারীর তৃতীয় ঢেউ শীর্ষে পৌঁছায়। তার পর থেকেই সংক্রমণ ক্রমশ কমছে। তবে শহরে এখন অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ৭০ হাজার। পজিটিভিটি রেট ২০ শতাংশের বেশি। তবে কোভিড রোগীদের মধ্যে ৫৩ হাজার জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি। শহরের হাসপাতালগুলিতে কোভিড রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ১৩ হাজার বেড খালি পড়ে আছে।
সম্প্রতি কোভিড টেস্টের খরচও কমিয়ে দিয়েছে দিল্লি সরকার। আরটি পিসিআর টেস্টের জন্য এখন ৫০০ টাকার বদলে খরচ হচ্ছে ৩০০ টাকা। বাড়ি থেকে টেস্ট করালে খরচ হচ্ছে ৫০০ টাকা।
বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিনে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার জন। পজিটিভিটি রেট এখন ১৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ৭০০-র বেশি মানুষ।