‘কলিযুগে মানুষের আয়ু কম, দিল্লির দূষণ আরও কমাচ্ছে, ফাঁসি দিয়ে কী হবে’ আর্জি নির্ভয়া-ধর্ষকের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্ভয়া ধর্ষকদের ফাঁসিতে ঝোলানোর ক্ষেত্রে এখনও কিছু আইনি প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। ফাঁসির দড়ি তৈরি। ‘ডামি’ মহড়াও সারা হয়ে গিয়েছে। খালি নির্দেশ আসার অপেক্ষা। এখনও অবশ্য সাজা মকুবের আশা ছাড়েনি নির্ভয়া কাণ্ডের দোষীরা। সুপ্রিম
শেষ আপডেট: 9 December 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্ভয়া ধর্ষকদের ফাঁসিতে ঝোলানোর ক্ষেত্রে এখনও কিছু আইনি প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। ফাঁসির দড়ি তৈরি। ‘ডামি’ মহড়াও সারা হয়ে গিয়েছে। খালি নির্দেশ আসার অপেক্ষা। এখনও অবশ্য সাজা মকুবের আশা ছাড়েনি নির্ভয়া কাণ্ডের দোষীরা। সুপ্রিম কোর্ট ফাঁসির সাজা বহাল রাখার পরেও রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছে নির্ভয়া গণধর্ষণকাণ্ডের অন্যতম দোষী অক্ষয় ঠাকুর। আর এই রিভিউ পিটিশনে আইনজীবীকে দিয়ে সে যেভাবে তার যুক্তি সাজিয়েছে সেটা সামনে আসার পরে ক্ষোভের পারদ আরও বেশি চড়েছে।
সাজা মকুবের আর্জি জানাতে গিয়ে অক্ষয় ঠাকুর টেনে এনেছে হিন্দু পুরাণ, মহাত্মা গান্ধী এমনকি দিল্লির দূষণকেও। ১৪ পাতার রিভিউ পিটিশনে তার দাবি, “বেদ, পুরাণ, উপনিষদ অনুযায়ী যুগের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আয়ুও কমে। আগে মানুষ হাজার বছরের বেশি বাঁচত, এখন কলিযুগ। এই যুগে মানুষের আয়ু কমে ৫০-৬০ বছরে এসে ঠেকেছে। খিব কম মানুষই ৮০-৯০ বছর পর্যন্ত বাঁচেন। আয়ুই যখন কম, তখন আর মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়ে কী হবে!”
যুক্তির শেষ এখানেই হয়নি। মহাত্মা গান্ধীর উদ্ধৃতি তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চেয়েছে দোষী অক্ষয় ঠাকুর। রিভিউ পিটিশনে উঠে এসেছে দিল্লির দূষণের কথাও। অক্ষয় ঠাকুরের দাবি, “বায়ুদূষণ রাজধানী দিল্লিকে গ্যাস চেম্বারে পরিণত করেছে। শুধু তাই নয় দিল্লির জলও বিষাক্ত। সে কথা সরকারও স্বীকারও করেছে। সবাই জানে দিল্লির বাতাস কতটা দূষিত, জল কতটা খারাপ। এই দূষণ আমাদের আয়ু দিন দিন আরও কমিয়ে দিচ্ছে। তাহলে আর ফাঁসির সাজা কেন!”
নির্ভয়া কাণ্ডের চার দোষী অক্ষয় ঠাকুর, মুকেশ সিংহ, বিনয় কুমার এবং পবন গুপ্ত এখন তিহাড় জেলে বন্দি। আলাদা আলাদা সেলে রেখে সিসিটিভিতে নজরদারি চলছে তাদের উপর। দোষীদের মধ্যে বিনয় কুমার দিল্লি সরকার ও কেন্দ্রের কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহে দু’পক্ষই তা খারিজ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছে। অন্য দিকে সুপ্রিম কোর্টে ফাঁসির সাজা বহাল রাখার পর রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিল তিন দোষী বিনয়, মুকেশ ও পবন। কিন্তু শীর্ষ আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে। পরে শীর্ষ আদালতে এই রিভিউ পিটিশন দাখিল করে অক্ষয় ঠাকুর।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজধানী শহর দিল্লিতে গভীর রাতে ফাঁকা বাসে জোর করে তুলে নেওয়া হয় বছর কুড়ির এক তরুণীকে। মেডিক্যালের ওই ছাত্রীর উপর চলে অমানবিক অত্যাচার। নৃশংশতার সীমা পেরিয়ে ছ’জন মিলে তরুণীকে গণধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ৫ অভিযুক্তের ফাঁসির আদেশ দেয় নিম্ন আদালত। আর এক দোষী অপরাধের সময় নাবালক হওয়ায় সর্বোচ্চ তিন বছর জেল খাটার পর ছাড়া পেয়ে যায়। জেলে থাকাকালীনই এক দোষী রাম সিং আত্মহত্যা করে। দিল্লি হাইকোর্টে ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন সাজার আর্জি জানায় বাকি তিন দোষী। দিল্লি হাইকোর্টে সেই আর্জি খারিজ হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টেও খারিজ হয় এই আবেদন।