দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি পুলিশের তরফে এফআইআর দায়ের হল সুইডিশ তরুণী গ্রেটা থুনবার্গের বিরুদ্ধে! ১৮ বছরের গ্রেটার অপরাধ, কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে টুইট করেছেন তিনি। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, বিদ্রোহী কৃষকদের উদ্দেশে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন গ্রেটা। যদিও এতে মোটেই দমে যাননি গ্রেটা, বরং এফআইআর-এর পরেই সঙ্গে সঙ্গে আরও একটি টুইট করে ঘোষণা করে দিয়েছেন, তিনি সবকিছুর পরেও কৃষকদের পক্ষেই রয়েছেন। কোনও হুমকি বা ঘৃণাতে এটা বদলাবে না।
https://twitter.com/GretaThunberg/status/1357282507616645122
মঙ্গলবার রাতেই নিজের টুইটার হ্যান্ডল থেকে ভারতের কৃষক আন্দোলন সম্পর্কিত একটি খবরের লিঙ্ক শেয়ার করেছিলেন গ্রেটা। সেই লিঙ্ক শেয়ার করে ভারতে আন্দোলনরত কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি, টুইট করেন কীভাবে কৃষক আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। সেই সম্পর্কিত টুইট করেন তিনি। ফেসবুকে তাঁর ফলোয়ারদের উদ্দেশে আবেদন করেন, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি আপনার নিকটবর্তী ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখান।
সেই সঙ্গে একটি গুগল ডকুমেন্ট শেয়ার করেন তিনি। সেখানে লেখা ছিল ভারতের যে ইমেজ আছে বিশ্বে চা ও যোগের জন্য়, সেটাতে বদল আনতে হবে। বিভিন্ন ভারতীয় শিল্পপতিদের ব্যবসা টার্গেট করার কথাও বলা হয়। এমনকী কৃষি আইন যদি প্রত্যাহার হয় তাহলেও লড়াই থামবে না, যুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে, এই কথাও বলা হয়।
গ্রেটার পাশাপাশি পপস্টার রিহানাও টুইট করেন কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে। একের পর এক সেলেব এভাবে মুখ খোলায় স্বাভাবিক ভাবেই আন্তর্জাতিক মহলে অস্বস্তিতে পড়ে ভারত। বস্তুত, ভারতে কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের এ হেন প্রতিক্রিয়া একেবারেই ভাল চোখে দেখেনি নয়াদিল্লি।
এর পরেই বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ টুইট করে বলেন, "কোনও প্রচারই ভারতের ঐক্যকে ভাঙতে পারবে না। ভারত উন্নতির নতুন শিখরে পৌঁছবেই। কোনও প্রচারই তাকে নিরস্ত করতে পারবে না। ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে প্রগতি, অন্য কিছু নয়। ভারত ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও অনেক সেলিব্রিটিও বুধবার টুইট করে বলেন, ভারত ঐক্যবদ্ধ আছে। তাঁদের মধ্যে আছেন বিশিষ্ট প্রাক্তন ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলি, বলিউডের অভিনেতা অক্ষয় কুমার ও অজয় দেবগণ। সেই সঙ্গে গ্রেটা ও রিহানাকে আক্রমণও করেন অনেকে। গ্রেটাকে 'স্পয়েল্ট ব্র্যাট' বলে মন্তব্য করেন কঙ্গনা রানাওয়াত।
এবার দায়ের হল গ্রেটার বিরুদ্ধে এফআইআর-ও, যার পাল্টা জবাব ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছেন গ্রেটা। এর পরে কৃষক বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হয়, সেটাই দেখার।