
শেষ আপডেট: 2 May 2023 07:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তান তখন মাতৃগর্ভে, সেই অবস্থাতেই স্ত্রী এবং ভূমিষ্ঠ না হওয়া সন্তানকে ফেলে চলে গিয়েছিলেন স্বামী। সন্তান জন্মের পর তাকে এক হাতে বড় করেছেন মা। তারপরেও সন্তানের পাসপোর্টে অভিভাবকের জায়গায় ছিল বাবার নাম। সেই নাম সরিয়ে দেওয়ার আর্জি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মা। সব কিছু বিচার বিবেচনার পর সেই নাম সরিয়ে দেওয়ার জন্য পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court Passport order)।
সরকারি নথিপত্রের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বাবার নাম বাধ্যতামূলক না করার স্বপক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই সওয়াল করছেন সমাজকর্মীরা। এই ঘটনাটির ক্ষেত্রে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদনকারিণী জানিয়েছেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা থাকার সময়েই তাঁকে ছেড়ে চলে যান স্বামী। পরে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। ছেলে হওয়ার পর একবারও তার কোনও খোঁজ খবর নেননি স্বামী, দেখতেও আসেননি। সম্পূর্ণ একাই ছেলেকে বড় করেছেন তিনি (Single Mother)। সেই ছেলে এখনও নাবালক। তার পাসপোর্ট রয়েছে, যেখানে বাবার নাম হিসেবে মহিলার স্বামীর নাম রয়েছে।
ছেলের পাসপোর্ট থেকে সেই নাম সরিয়ে দেওয়া, কিংবা বাবার নাম ছাড়াই ছেলের নতুন পাসপোর্টের দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন মহিলা। গত ১৯ এপ্রিল সেই মালার শুনানিতে আদালত জানিয়েছে, যেহেতু মহিলা সিঙ্গল মাদার এবং পিতা সম্পূর্ণরূপে সন্তানকে পরিত্যাগ করেছেন, তাই পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের সন্তানের পিতার নাম নাম উল্লেখ করার ক্ষেত্রে জোর করা উচিত নয়।
বিচারপতি প্রতিভা এম সিং তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পিতৃপরিচয় মুছে ফেলা যেতে পারে এবং পদবিও পরিবর্তন করা যেতে পারে। আদালত জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনায় কোনও নিদিষ্ট এবং বাধ্যতামূলক নিয়ম না রেখে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং অবস্থার কথা বিবেচনা করতে হবে। 'বাবা-মায়ের দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন অনেক সমস্যাজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে সন্তানের পাসপোর্টের আবেদন কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করতে হতে পারে,' আদালত জানিয়েছে৷
কোর্টের নির্দেশ মানছে না পুলিশ! প্রবল ক্ষুব্ধ বিচারপতি মান্থা, কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি