দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণে প্রথম মৃত্যু হয়েছে ভারতে। রাজ্যে রাজ্যে বাড়ছে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা। জরুরি অবস্থা জারি করে করোনার সংক্রমণকে মহামারী ঘোষণা করল দিল্লি সরকার।
ভারতে নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৪। সব মিলিয়ে সংক্রামিতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ জনে। যার মধ্যে ৫৬ জন ভারতীয় ও ১৭ জন বিদেশি পর্যটক। গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, কর্নাটকের কালবুর্গি জেলায় মহম্মদ হুসেন সিদ্দিকি নামে ৭৬ বছরের যে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল তিনি করোনাভাইরাস আক্রান্ত ছিলেন। ২৯ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরব থেকে হায়দরাবাদে ফিরেছিলেন ওই ব্যক্তি। গত ৫ মার্চ হাঁপানি ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরীক্ষার রিপোর্টে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এতদিন শুধু রাজ্যে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যাই সামনে আসছিল। দেশে প্রথম ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় আরও সতর্ক স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
রাজধানী দিল্লিতে প্রথম দু’জনের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। ইতালি ও দুবাই ফেরত দু’জনকে রাখা হয়েছিল কোয়ারেন্টাইনে। পরে দেখা যায় সেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে নয়ডার স্কুলের এক অভিভাবকের মধ্যেও। সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, দিল্লিতে এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পজিটিভ ৬ জনের শরীরে। করোনার সংক্রমণকে মহামারী ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজ। দোকান-বাজারও প্রায় ফাঁকা। ঝাঁপ পড়েছে রেস্তোরাঁ-সিনেমা হলের।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ইতালির যে পর্যটকের দল ছড়িয়ে পড়েছিলেন দিল্লি ও জয়পুরে, তাঁদের মধ্যে ১৭ জনই ভাইরাস আক্রান্ত। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রে ন’জনের শরীরে মিলেছে মারণ ভাইরাসের খোঁজ। উত্তরপ্রদেশে ভাইরাস আক্রান্তের মোট সংখ্যা ১০ জন। বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে একজন করোনা আক্রান্ত। কেরলে উহান ফেরত তিন ছাত্রের মধ্যে প্রথম করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।
হরিয়ানায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে মহামারী ঘোষণা করেছে সরকার। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪। তবে সংক্রামিতেরা বিদেশি পর্যটক। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, বিদেশিদের সংস্পর্ষ থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ আরও অনেকের মধ্যেই ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে রাজ্যের নানা প্রান্তে মোট ২৭০টি আইসোলেশন ওয়ার্ড বানানো হয়েছে। ত্তরপ্রদেশে ভাইরাস আক্রান্তের মোট সংখ্যা ১০ জন।
ভাইরাস আক্রান্তের নাম-পরিচয় গোপন রাখার জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে পুণে প্রশাসন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সংক্রামিতের পরিচয় ফাঁস করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ভারত সরকারও ঘোষণা করেছে, এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সমস্ত দেশের নাগরিকদের ভিসা স্থগিত করা হবে। নতুন ভিসাও এখন দেওয়া হবে না কাউকে। বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে টুইট করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। টুইটারের ওই পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়, কূটনৈতিক কর্মকর্তা, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিদের ভিসা বাদে ভারতের অন্য সব ধরনের ভিসা ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারীরা যে এতদিন ভিসা ছাড়াই এ দেশে প্রবেশাধিকার পেতেন, সে সুবিধাও আপাতত স্থগিত করেছে সরকার।