
শেষ আপডেট: 16 November 2022 09:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির নৃশংস খুনি আফতাব পুনাওয়ালার (Aftab Poonawala) নার্কো অ্যানালাইসিস টেস্ট (Narco Test) হবে। অনুমতি দিল আদালত (Delhi Court)। ১৮ মে প্রেমিকা শ্রদ্ধা ওয়াকারকে খুন করে ৩৫ টুকরো করে কুপিয়েছিল সে। এই ঘটনায় শনিবার আফতাবকে গ্রেফতার করার পর থেকেই সামনে আসছে একের পর এক নারকীয় তথ্য।
শনিবার গ্রেফতারির পর থেকেই ২৮ বছরের আফতাবকে লাগাতার জেরা করে চলেছেন তদন্তকারীরা। এবার তার নার্কো টেস্টের জন্য আদালতের অনুমতি চেয়েছিল পুলিশ। সে অনুমতি মিলেছে আজ, বুধবার।
কী এই নার্কো টেস্ট?
এই টেস্টে এমন কিছু বিশেষ ওষুধ ব্যবহা করা হয়, যার দ্বারা মানুষের মস্তিষ্ক কিছুক্ষণের জন্য আংশিক অকেজো করে দেওয়া হয়। কিন্তু তার অবচেতন মন সে সময়ে জাগ্রত থাকে। ফলে সে সময়ে কোনও তথ্য জানতে চাওয়া হলে সাধারণত সত্যি কথা বলে দেয় অভিযুক্ত। এই পদ্ধতিই হল নার্কো টেস্ট। সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদে কেউ তথ্য গোপন করলেও, অবচেতনে মস্তিষ্কের দেওয়া তথ্য সত্যি বলেই মনে করা হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তা তদন্তে কাজে লাগে।
শনিবার গ্রেফতার হওয়ার পরে জেরার মুখে প্রথমে নানা রকম মিথ্যে কথা বললেও, শেষমেশ দোষ স্বীকার করেছে আফতাব। পুলিশকে বিস্তারিত জানিয়েছে, কেন, কীভাবে প্রেমিকা শ্রদ্ধাকে খুন করেছিল সে, তার পরে কীভাবে কুপিয়ে টুকরো করেছিল সেই দেহ, তার পরে কীভাবেই বা প্রমাণ লোপাট করতে দেহের টুকরো ছড়িয়ে বেরিয়েছিল দিল্লির নানা এলাকায়।
কিন্তু পুলিশের সন্দেহ, এখনও সব সত্যি কথা খুলে বলছে না আফতাব। নানারকম 'চালাকি' করার চেষ্টা করছে, নানা মিথ্যে কথা বলে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করছে। এই কারণেই তার নার্কো টেস্ট করানোর অনুমতি চেয়েছিল দিল্লি পুলিশ।
সূত্রের খবর, এই হত্যাকাণ্ডের জট ছাড়াতে যা সবচেয়ে জরুরি প্রমাণ, তাই এখনও হাতে আসেনি। যে অস্ত্র দিয়ে ৩৫ টুকরো করে কাটা হয়েছিল শ্রদ্ধার দেহ, তা এখনও খুঁজে পাননি তদন্তকারীরা। তাঁরা জেনেছেন, শ্রদ্ধাকে খুন করার পরে আফতাব একটি করাত কিনে এনেছিলেন। সেই করাত দিয়েই কাটা হয়েছে শ্রদ্ধার দেহ, অনুমান পুলিশের। তার পরে আফতাব ওই করাত দূরে কোথাও ফেলে দিয়ে আসে।
শুধু তাই নয়, এখনও পর্যন্ত শ্রদ্ধার শরীরের মাত্র ১৩টি টুকরো পাওয়া গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া টুকরোগুলি শ্রদ্ধার দেহেরই অংশ কিনা, তা জানতে ইতিমধ্যে ফরেন্সিক পরীক্ষাও চলছে। তবে বাকি টুকরোগুলি না পেলে তদন্ত সম্পূর্ণ হবে না বলেই মনে করছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের একটি বড় পর্যায় নির্ভর করে রয়েছে কেবল অভিযুক্ত আফতাবের স্বীকারোক্তির উপর। সবকিছু নির্ভুল ভাবে জানতে না পারলে, ছ’মাস আগে ঘটে যাওয়া এই খুনের তদন্ত সহজ হবে না। তার উপরে আফতাবের ভুল বয়ান সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে।
পুলিশের আরও অনুমান, শ্রদ্ধাই আফতাবের প্রথম অপরাধ নয়। আগেও এমন অপরাধমূলক কাজ করেছে সে। কিন্তু সে নিয়েও কোথাও কোনও প্রমাণ মিলছে না। তাই এই সব কিছু তথ্য স্পষ্ট ভাবে জানতে নার্কো টেস্ট কার্যকরী হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
১০ দিন আগেই খুন করত আফতাব, ঝগড়ার সময়ে শ্রদ্ধা কান্নাকাটি করতেই ভেস্তে যায় প্ল্যান