
শেষ আপডেট: 24 February 2020 18:30
রতন লালের দেহ এখনও দিল্লির অমৃত বিহার কলোনিতে পৌঁছয়নি। যন্ত্রণার প্রহর গুনছেন রতনের স্ত্রী পুনম। ছোট ছেলে বছর আটেকের রাম মৃত্যু বোঝে না। বাবার বাড়ি ফিরে আসার অপেক্ষা করছে। দুই মেয়ে সিদ্ধি (১৩) ও কনক (১০) রয়েছে রতনের আর এক ভাই দীনেশের কাছে। দীনেশ বলেছেন, ‘‘গোকুলপুরির এসিপি-র সঙ্গেই দাদা গিয়েছিল ঘটনাস্থলে। তার কোনও দোষ ছিল না। সকলে মিলে তাকে ঘিরে ধরে পাথর ছুড়তে থাকে। এই ছোট্ট পরিবারের একমাত্র রোজগেরে দাদা। পরিবার এখন ভেসে যাবে।’’ দাদার মৃত্যুর খবর শুনে বেঙ্গালুরু থেকে রওনা দিয়েছেন রতনের আর এক ভাই মনোজ। তিনি বলেছেন, অন্যায়ভাবে খুন করা হয়েছে। এর বিচার চায় পরিবার।
রাজস্থানের সিকার জেলার ফতেপুর তিথওয়ালি গ্রামে বাড়ি রতন লালের। ১৯৯৮ সালে তিনি দিল্লি পুলিশে চাকরি পান। ২০০৪ সালে পুনমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দিল্লির অমৃত বিহার কলোনিতেই বর্তমান ঠিকানা ছিল তাঁর। এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, নিতান্তই ভাল মানুষ ছিলেন রতন। কখনও নাকি উঁচু গলায় কথা বলতেন না। রুক্ষ মেজাজও ছিল না। যেমন ভদ্র, তেমনি বিনয়ী । সকলের সঙ্গে তাঁর ভাল সম্পর্ক ছিল। কখনও তাঁকে রাগতে বা কটূ কথা বলতে শোনা যায়নি। এমন মানুষের এত ভয়ঙ্কর মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের প্রথম দিনে পাথরবৃষ্টি থেকে গুলি, দোকানে-বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া— সব কিছুরই সাক্ষী হল রাজধানী দিল্লি। সিএএ-বিরোধী আন্দোলন ঘিরে অশান্তিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে চার জন প্রাণ হারালেন। মৌজপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে পুলিশের হেড কনস্টেবল রতন লালের মৃত্যুর পরে বিকেলে চাঁদবাগে ফুরকান আনসারি (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। রাতে গুরু তেগবাহাদুর হাসপাতালে মারা যান শাহিদ নামে এক যুবক। অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক জনের মৃত্যুরও খবর মিলেছে। সূত্রের খবর, আহত হয়ে তেগবাহাদুর হাসপাতালেই ভর্তি অন্তত ২০ জন।
মঙ্গলবার সকাল থেকেও অশান্তির আগুন জ্বলছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির কারোয়াল নগর, মৌজপুর, ভজনপুরা, বিজয় পার্ক এবং যমুনা বিহারে । সিএএ-র প্রতিবাদে জমায়েত হওয়া বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ভাঙতে বিজেপিই দিল্লি পুলিশকে পাঠিয়ে অশান্তি পাকাচ্ছে।বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তারাই হিংসা ছড়াচ্ছে। সোশ্য়াল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওয় হিংসার ছবি ক্রমে ছড়িয়ে পড়ছে। এমন উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মৌজপুর এলাকায় স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি প্রাণে বাঁচেন। তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।