
শেষ আপডেট: 9 October 2023 19:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রত্যাশিতভাবেই রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর পাঁচদিনের ধর্না কর্মসূচিতে ইতি টানলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তবে আন্দোলন যে এখানেই শেষ হচ্ছে না, ফের সেটা স্পষ্ট করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যপালের ‘ভদ্রতা’র প্রশংসার পাশাপাশি কেন্দ্রের মোদী সরকারের উদ্দেশে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, “২ মাস পর ৫০ হাজার লোক যাবে দিল্লিতে। পারলে আটকে দেখিও। ট্রেলারটা দেখালাম। পিকচার আভি বাকি হ্যায়!”
নেত্রীর নেতৃত্বে কেন দিল্লি অভিযান তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। তিনি বলেন, “গরিব মানুষের টাকা আটকে রাখার এই জমিদারি তৃণমূল চলতে দেবে না। তাই ২ মাস পর আমরা ফের দিল্লি অভিযান করব।”
বস্তুত, এদফার আন্দোলনে প্রথম থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন অভিষেক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই অভিষেকের রাজনৈতিক দক্ষতার প্রশংসাও করেছেন। একথা অজানা নয় তাঁরও। তাই নেত্রীর ঢঙেই অভিষেককে বলতে শোনা গিয়েছে, “অভিষেকের কোনও ক্ষমতা নেই। এটা মানুষের আন্দোলন। মানুষ চেয়েছে বলে এই আন্দোলন সফল হয়েছে।”
একই সঙ্গে নাম না করে বঙ্গ বিজেপি নেতাদের আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “আমরা ২ সপ্তাহ সময় দিয়েছিলাম, রাজ্যপাল বলেছেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ করবেন। ইতিমধ্যে বাংলার বঞ্চনা নিয়ে কথা বলতে উনি দিল্লিও রওনা দিয়েছেন। ওঁনার এই তৎপরতার পরেও বাংলার কিছু বিজেপি নেতা এখনও বলছে বাংলার মানুষকে টাকা দেওয়া হবে না। চার আনা, আট আনার নেতা ঠিক করবে, বাংলার মানুষ টাকা পাবে কি না। প্রতিরোধ যেদিন তীব্রতব হবে, সেদিন বাড়ি থেকে বের হওয়া দূরের কথা জানালা দিয়ে নীচে তাকাতে পারবে না।”
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে গত ২ ও ৩ অক্টোবর দিল্লিতে ধর্না কর্মসূচি নিয়েছিল তৃণমূল। অভিযোগ, ৩ অক্টোবর দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রেখেও দেখা করেননি কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি। প্রতিবাদে ধর্নায় বসলে আন্দোলনকারীদের চ্যাংদোলা করে প্রিজনভ্যানে তোলার অভিযোগ ওঠে। থানা থেকে বেরিয়ে রাজভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন অভিষেক। একই সঙ্গে ফের দিল্লি অভিযানেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেটা যে স্রেফ কথার কথা ছিল না, পুনরায় অভিযানের কথা জানিয়ে সেটাই স্পষ্ট করেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, “যদি ভাবেন ধমক, চমক দিয়ে তৃণমূলকে থামিয়ে দেবেন তাহলে আন্দোলনের ভাষা আরও তীব্রতর করবে। ন’বছরের সরকারকে সাতদিনে দেখিয়ে দিয়েছে বাংলা কী করতে পারে, বাংলার ক্ষমতা কী। দিল্লি থেকে বের করে দিয়েছিলেন, সেই মন্ত্রীকে কলকাতায় ছুটে আসতে আসতে হয়েছে। বাংলা আত্মসমপর্ণ করবে না। সেটা বোঝাতে ফের দিল্লি অভিযান হবে।”