
শেষ আপডেট: 20 December 2022 07:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৪ ডিসেম্বর বুধবার দক্ষিণ পশ্চিম দিল্লির দ্বারকা মেট্রো স্টেশনের সামনে ১৭ বছর বয়সি এক স্কুলছাত্রীর উপর অ্যাসিড ছুড়ে পালিয়েছিল বাইকে করে আসা দুই দুষ্কৃতী (delhi Acid Attack)। সিসিটিভি ক্যামেরায় ছাত্রীর উপর হামলার পুরো ঘটনা ধরা পড়েছিল, যা দেখে শিউরে উঠেছিলেন নেটিজেনরা। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ফ্লিপকার্ট থেকে হামলার জন্য অ্যাসিড কিনেছিল দুই অভিযুক্ত। সেই ঘটনায় ফ্লিপকার্টের কাছে অ্যাসিড বিক্রেতার তথ্য এবং পেমেন্ট ডিটেলস চেয়ে পাঠিয়েছিল পুলিশ। সেই ঘটনায় এবার ফ্লিপকার্ট জানাল, আগ্রার একটি সংস্থা ওই অ্যাসিড বিক্রি করেছিল, যা দিয়ে কিশোরীর উপর হামলা চালানো হয়েছিল (Flipkart)।
এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, 'যে ব্যক্তি অনালাইনে ওই অ্যাসিড বিক্রি করেছিল, সে আগ্রার বলে জানা গেছে। ৬০০ টাকা দিয়ে অ্যাসিড কেনা হয়েছিল। আইন মেনে অ্যাসিড বিক্রি করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে আগ্রায় তদন্তকারীদের একটি দল পাঠানো হবে।'
বর্তমানে সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আহত কিশোরী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চোখদু’টি বেঁচে গেছে নাবালিকার। দৃষ্টিশক্তি রয়েছে তার। আপাতত জ্ঞান ফিরেছে, কথাও বলছে মেয়েটি। তবে মুখের ও গায়ের ক্ষত সারতে সময় লাগবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার মূল চক্রী সচিন অরোরা বলে এক যুবক। তার সঙ্গে ছিল হর্ষিত আগরওয়াল এবং বীরেন্দ্র সিং। তিন জনেরই বয়স উনিশ-কুড়ির কোঠায়। হর্ষিত আগরওয়াল বাইক চালাচ্ছিল, সচিন ছুড়েছিল অ্যাসিড। পরে বীরেন্দ্র সিং ওই বাইক এবং সচিনের মোবাইল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে চলে যায়, যাতে লোকেশন দেখে পুলিশ কিছু বুঝতে না পারে।
বুধবারের এই অ্যাসিড হামলার ঘটনার পুরো ভিডিও ধরা পড়েছে রাস্তার ধারে লাগানো সিসি ক্যামেরায়। সেই সূত্র ধরেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে তিন অভিযুক্ত। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাদের জেরা করার পরে জানিয়েছে, রাস্তার দোকান থেকে নয়, রীতিমতো ফ্লিপকার্টে (Flipcart) অর্ডার দিয়ে অ্যাসিড কিনেছিল অভিযুক্তরা।
এরপরেই দিল্লির মহিলা কমিশনের তরফে একটি নোটিস ইস্যু করা হয়েছিল ই-কমার্স সাইট ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজনকে। অনলাইনের খোলা বাজারে তারা কীভাবে অ্যাসিড বিক্রি করতে পারে, সেই প্রশ্ন তোলা হয়। এই দুই সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে, ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে।
এরপর বৃহস্পতিবার দিল্লির এই অ্যাসিড হামলার নিন্দা করে একটি বিবৃতি জারি করে ফ্লিপকার্ট। জানায়, ওই অ্যাসিড বিক্রেতাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে তারা। তদন্তে যে কোনও ধরনের সাহায্য করতেও তারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। বিবৃতিতে তারা বলে, ‘এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার কড়া নিন্দা করছি আমরা। আক্রান্ত কিশোরী ও তার পরিবারের জন্য প্রার্থনা করছি। ফ্লিপকার্টের তরফ থেকে খুঁটিয়ে দেখা হবে এভাবে কারা নিয়ম ভেঙে নিষিদ্ধ, বেআইনি ও বিপজ্জনক জিনিস বিক্রি করছে। যাদের পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করছে ফ্লিপকার্ট।’
তারপরেই দিল্লি পুলিশের কাছে বিক্রেতার তথ্য পাঠিয়েছে ফ্লিপকার্ট।
এই ঘটনার তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সচিন অরোরা এবং ওই কিশোরীর বন্ধুত্ব ছিল গত সেপ্টেম্বর অবধি। তারা একই এলাকার বাসিন্দা। সেপ্টেম্বরের পর থেকে বন্ধুত্বে চিড় ধরতেই প্রতিশোধ নেওয়ার ছক কষতে থাকে সচিন।
প্রসঙ্গত, দেশে অ্যাসিড হামলার ঘটনা ক্রমশ বাড়তে থাকায় ২০১৩ সালে দোকানে অ্যাসিড বিক্রি নিষিদ্ধ করে সুপ্রিম কোর্ট। কোথা থেকে কীভাবে অ্যাসিড বিক্রি করা যাবে, সে বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করে শীর্ষ আদালত। বলা হয়, শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতারা রেজিস্টার্ড দোকান থেকে অ্যাসিড বিক্রি করতে পারবেন। উপযুক্ত কারণ এবং পরিচয়পত্র দেখিয়ে তবেই কেনা যাবে অ্যাসিড। কারা কিনছেন, তাঁদের নামও নথিভুক্ত করতে হবে বলে বিক্রেতাদের জানিয়েছিল আদালত।
দিল্লির অ্যাসিড আক্রান্ত কিশোরীর চোখদু’টি বেঁচে গেছে, মহিলা কমিশন নোটিস ধরিয়েছে ফ্লিপকার্টকে