
জঙ্গলমহলে যৌথবাহিনী।
শেষ আপডেট: 12 June 2024 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট মিটতেই ফের রাজ্যে আসছে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি দল। এদফায়, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের নজরে জঙ্গলমহল।
জানা যাচ্ছে, জঙ্গলমহলের নিরাপত্তায় বরাদ্দ অর্থ কীভাবে খরচ হয়েছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন তাঁরা।
একসময় জঙ্গলমহলের একাংশ অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল মাওবাদীরা। সেটা ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর। শালবনীতে জিন্দলদের ইস্পাত কারখানার উদ্বোধন সেরে ফেরার পথে মেদিনীপুর শহরের অদূরে ভাদুতলায় ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে মাওবাদীদের মাইন বিস্ফোরণের মুখে পড়েছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-সহ দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয়।
মাওবাদীদের খোঁজে এরপর লালগড়ের গ্রামে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পাল্টা হিসেবে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে রাস্তা কেটে আন্দোলন শুরু করেন স্থানীয়রা। গড়ে তোলা হয়, পুলিশি নির্যাতন বিরোধী জনসাধারণের কমিটি। পরে ওই কমিটির কর্তৃত্ব নেয় মাওবাদীরা।
এরপরই মাওবাদী দমনে ২০০৯ সালের জুন থেকে যৌথ অভিযানে নামে কেন্দ্র ও রাজ্যের পুলিশ। পালা বদলের বাংলায় ২০১১ সালের নভেম্বরে পশ্চিম মেদিনীপুরের জামবনির বুড়িশোলের জঙ্গলে কেন্দ্র এবং রাজ্যের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় মাওবাদীদের অন্যতম শীর্ষনেতা মাল্লেজুল্লা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজির। তারপর থেকে সময়ের সঙ্গে কমেছে মাওবাদীদের প্রভাব।
শান্তি ফিরলেও এখনও বেলপাহাড়ি, শিলদা, লালগড়-সহ জঙ্গলমহলের একাধিক এলাকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্প। যে খাতে এখনও অর্থ বরাদ্দ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সূত্রের খবর, ওই বরাদ্দ অর্থ কীভাবে খরচ হয়, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতেই রাজ্যে প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে অমিত শাহের মন্ত্রক। জানা যাচ্ছে, আগামী ২৩ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত রাজ্যে থাকবেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
যদিও নবান্ন সূত্রের খবর, কেন্দ্রের বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ সংক্রান্ত তথ্য, সমস্ত নথি সময়েই পাঠিয়ে দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে। তা সত্ত্বেও কেন্দ্রের প্রতিনিধি দলের কেন এই 'সফর', তা স্পষ্ট নয় বলেই নবান্ন সূত্রের দাবি।