
শেষ আপডেট: 10 October 2023 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র দু মাস আগের ঘটনা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তোলপাড় হয়ে যায় গোটা রাজ্য। হস্টেলে নিজেকে সমকামী বলতে ওই পড়ুয়াকে বাধ্য করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার সমকামিতার তকমা দিয়ে এক স্কুল ছাত্রীকে মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, জোর করে এক বান্ধবীর সঙ্গে ‘সমকামী’ সম্পর্ক মানতে বাধ্য করা হচ্ছিল সেই ছাত্রীকে।
ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থানার হাড়োয়া রেলগেট সংলগ্ন হাদিপুরের এক বেসরকারি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। অভিযোগ, সেখানেই সহপাঠীদের র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছে এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। এমনকী ছাত্রীটি কথামতো কাজ না করায় হস্টেলেই তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে দাবি পড়ুয়ার পরিবারের। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা থানা এলাকার বাসিন্দা ওই ছাত্রী। তার মা-বাবা চলতি মাসের ১ তারিখ হাদিপুরের ওই আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে তাঁরা জানতে পারেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁর মেয়েকে ‘সমকামী’ বলে কটুক্তি করছিল সহপাঠীরা। এমনকী প্রতিবাদ করায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্কুল ছাত্রীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপরই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ছাত্রী। ভয়ে আর হস্টেলে থাকতে চায় না বলেও মা-বাবাকে জানিয়েছে পড়ুয়া।
আক্রান্ত ছাত্রী জানিয়েছে, প্রায়ই এক বান্ধবীর সঙ্গে তাকে নিয়ে কটুক্তি করা হত। ওই বান্ধবীর সঙ্গে তার সমকামী সম্পর্ক রয়েছে এটা স্বীকার করতে বলেছিল সহপাঠীরা। তাতে রাজি না হওয়ায় প্রথমে সেই বান্ধবীকে তারপরে তাকে মারধর করেছে বলে জানায় ওই ছাত্রী। এই বিষয়ে শিক্ষিকাকে জানালে উল্টে তাদেরই তিরস্কার করা হয়।
বিষয়টি ওই আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকাকে জানাতে গিয়েছিলেন ছাত্রীর অভিভাবকেরা। কিন্তু তিনি আমল দিতে চাননি বলেও দাবি পরিবারের। অন্যদিকে, এবিষয়ে প্রধান শিক্ষিকাও কথা বলতে চাননি বলে দাবি ছাত্রীর মায়ের। মধ্যমগ্রামের গ্রামীণ হাসপাতালে ছাত্রীর চিকিৎসা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনাটি ছাত্রীর বাবা-মায়ের তরফে দেগঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।