দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে থ্রি-লেয়ার মাস্ক ব্যবহারেরই নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সার্জিক্যাল মাস্কের থেকে আলাদা এই ধরনের ফেবরিক মাস্কে (নন-মেডিক্যাল) তিনটি লেয়ার বা স্তর থাকে যা ভাইরাল স্ট্রেনকে শরীরের সংস্পর্শে আসতে বাধা দেয়। এই থ্রি-লেয়ার মাস্কই ভেষজ উপাদানের নির্যাস থেকে তৈরি করছে পুণের ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড টেকনোলজি (DIAT) । আয়ুষ মন্ত্রকের অনুমোদনে আয়ুর্বেদিক উপাদান থেকে তৈরি এমন তিন স্তরীয় মাস্ক ভাইরাল প্রোটিন নিষ্ক্রিয় করতে পারবে বলেই দাবি পুণের ডিফেন্স ল্যাবরেটরির।
পুণের এই ডিফেন্স ল্যাব ডিআরডিও (ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন)-র অধীনস্থ। এই ইনস্টিটিউটের মেটালার্জিক্যাল অ্যান্ড মেটিরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষকরা এই খ্রি-লেয়ার মাস্ক তৈরি করছেন। গবেষণার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন অধ্যাপক বালাসুব্রহ্মণ্যম কে। তিনি বলেছেন, এই মাস্ক ‘ভাইরাস নিউট্রালাইজ়ার’ হিসেবে কাজ করবে। সেটা কী রকম? রেসপিরেটারি ড্রপলেট যদি মাস্কের সংস্পর্শে আসে তার মধ্যে থাকা ভাইরাল স্ট্রেনকে এই মাস্কের তিনটি স্তর পার হতে হবে। এই তিন স্তরে এমন উপাদান থাকবে যা ভাইরাসের সংক্রামক আরএনএ প্রোটিনকে ধীরে ধীরে অকেজো করে দেবে। নিষ্ক্রিয় ভাইরাল প্রোটিনের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা থাকবে না।
কী কী উপাদানে তৈরি হচ্ছে এই থ্রি-লেয়ার মাস্ক?
অধ্যাপক সুব্রহ্মণ্যম জানিয়েছেন, আয়ুষ মন্ত্রকের সাহায্য নিয়েই এমন মাস্কের প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয়েছে। সুতির থ্রি-লেয়ার মাস্কের তিনটি স্তরেই থাকবে ভেষজ উপাদানের নির্যাস। নিম তেল, হলুদ, তুলসী, জোয়ান, মরিচ, গাম অ্যারাবিক, লবঙ্গ, চন্দন এবং জাফরান।

আয়ুর্বেদিক উপাদানে তৈরি এই মাস্কের নাম ‘পবিত্রপতি’।
ডিফেন্স ল্যাবের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই মাস্কের যে কোনও সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্যাথোজেনকে আটকানোর ক্ষমতা আছে। পাশাপাশি, ভেষজ উপাদানের নির্যাস শরীরের জন্যও ভাল। সাধারণ মাস্ক বেশিক্ষণ ব্যবহারে নাক ও মুকের ত্বকে র্যাশ বা চুলকানি হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি হতেও দেখা গেছে। তবে এই আয়ুর্বেদিক মাস্কে তেমন কোনও সমস্যা হবে না। প্লাস্টিকজাতীয় উপাদান না থাকায় এই মাস্ক বায়োডিগ্রেডেবলও।
হু কেমন মাস্কের কথা বলেছে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথমে বলেছিল যেসব এলাকায় সংক্রমণ খুব বেশি হারে ছড়িয়েছে সেখানে মেডিক্যাল মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। বিশেষত গোষ্ঠী সংক্রমণ যেখানে ছড়িয়েছে সেখানে ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ ব্যক্তিদের এই ব্যাপারে বেশি সচেতন থাকতে হবে। করোনা রোগীদের সংস্পর্শে থেকে চিকিৎসা করছেন যে ডাক্তার-নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীরা, তাঁদের মেডিক্যাল মাস্ক পরা জরুরি। পরে নতুন আপডেটেড গাইডলাইনে হু জানায়, জনবহুল জায়গায় বা গণপরিবহনে যেখানে পারস্পরিক শারীরিক দূরত্বের বিধি মেনে চলা সম্ভব নয়, সেখানে সকলকেই থ্রি-লেয়ার মাস্ক পরতে হবে। ওয়াটারপ্রুফ সিন্থেটিক মেটিরিয়ালে তৈরি এই মাস্কের বাইরের স্তর বা আউটার লেয়ার তৈরি হবে পলিপ্রপিলিন দিয়ে। এই পলিপ্রপিলিনের কাজ হল ভাইরাস ড্রপলেটকে আটকে দেওয়া। তার পরের অর্থাৎ মাসের স্তরেও থাকবে আরও একটা পলিপ্রপিলিন লেয়ার যার কাজ ছাঁকনির মতো ভাইরাল স্ট্রেনকে আটকে দেওয়া। আর একম ভেতরের স্তর অর্থাৎ যে অংশটা নাক ও মুখের সংস্পর্শে থাকবে সেটা তৈরি হবে সুতির উপাদানে।
পুণের ডিফেন্স ল্যাব যে ধরনের আয়ুর্বেদিক থ্রি লেয়ার মাস্ক তৈরি করছে তার বাইরের স্তর তৈরি হচ্ছে সুপার হাইড্রফোবিক উপাদানে যা ওয়াটার প্রুফ, ভেতরের স্তর হাইড্রফিলিক। এই মাস্ক ভাইরাসের অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলিকে নষ্ট করে দিতে পারে। পিপিই, ফেস-কভার, গ্লাভস তৈরিতেও এমন উপাদান ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিফেন্স ল্যাবের বিশেষজ্ঞরা।