.webp)
সৌমিত্র খাঁ।
শেষ আপডেট: 5 June 2024 17:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বিজেপির পরাজয়ের নেপথ্যে রয়েছে দলেরই একাংশ নেতার 'বিশ্বাসঘাতকতা'! বক্তা, বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী টানা তিনবারের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
সৌমিত্র বলেন, "ভোটের আগেই আমাদের অঞ্চল, জেলা থেকে রাজ্যস্তরের একাংশ নেতা তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং করে নিয়েছিলেন। তাই বাংলায় বিজেপির এত খারাপ ফল। তা না হলে আরও ৪টে সিট পেতাম।"
এবারে বাংলা থেকে ৩০টি আসনে জয়ের টার্গেট নিয়েছিল বিজেপি। সেখানে গতবারের ১৮টি আসনও ধরে রাখতে পারেনি গেরুয়া শিবির। জয় এসেছে মাত্র ১২টি আসনে।
পরিস্থিতির জন্য দলের নীচু তলা থেকে রাজ্যের শীর্ষস্তরের একাংশ নেতাকে দায়ী করে সৌমিত্র বলেন, দিল্লির নেতৃত্ব পাশে না থাকলে এই ১২টা আসনের ১টাও পেতাম না। নির্দিষ্ট করে কোনও রাজ্য নেতার নাম উল্লেখ করেননি।
তবে বলেছেন, "শুভেন্দু'দা চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু টিম ঠিক ছিল না। কিছু অযোগ্য লোক বসিয়ে দিলে রাজ্য চলে না। যারা নিজেরা কখনও কেস খাবে না, শুধু কর্মীদের কেস খাওয়াবে এভাবে চলতে পারে না।" আক্ষেপ করেছেন, দিলীপদা মেদিনীপুরে থাকলে জিততে পারতেন, আলুওয়ালিয়া জি বর্ধমান-দুর্গাপুরে থাকলে জিততেন।
মঙ্গলবার গণনা শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হয় সৌমিত্রকে৷ কখনও সৌমিত্র কখনও সুজাতা, দিনভর সাপলুডোর খেলা চলতে থাকে৷ রি কাউন্টিংয়ের পর রাতে ১০ টা নাগাদ কমিশন ৫ হাজার ৫৬৭ ভোটে সৌমিত্রকে জয়ী হিসেবে ঘোষণা করে৷
সৌমিত্রর দাবি, ভোটের জন্য দলের অভ্যন্তরে অভিষেক যে সিস্টেম বানিয়েছে সেটা রাজ্যের অনেক বড় বড় নেতা ধরতে পারেনি। আমি বুঝতে পেরেছিলাম, ওরা গণনায় ঢিলে করে আমাদের ধৈর্য্য দেখছিল। প্রত্যেকটা লোকসভায় ওরা একটা বিধানসভা টার্গেট করেছিল। তাই শুরু থেকেই সতর্ক ছিলাম।"
সৌমিত্রর কথায়, "ভোট শেষ হওয়ার পর থেকে আমি প্রতি মুহূর্তে স্ট্রং রুম নজরে রেখেছিলাম। এদিকে নজর দেননি বলেই এবারে অনেক রথী মহারথীকে হারতে হল।"
একই সঙ্গে বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ বলেন, অহঙ্কার ত্যাগ করতে হবে। আমাদের কিছু সাংসদদের অনেকের মধ্যে অহঙ্কার রয়েছে, হারের নেপথ্যে সেটাও একটা বড় কারণ।
তৃণমূলের সেনাপতি হিসেবে অভিষেক ভাল কাজ করেছেন বলেও জানান বিজেপি সাংসদ। প্রশংসা করেছেন নিজের প্রাক্তন স্ত্রী তথা প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী সুজাতারও। বলেছেন, "সুজাতা লড়াইটা ভাল দিয়েছে।"