দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোরালো লাল আলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে টানা তিন মিনিট। বেশি পলক ফেললে চলবে না। তাতেই নাকি শক্তি বাড়বে চোখে। ক্ষীণ দৃষ্টির সমস্যা ঘুচবে। অন্ধত্বের ঝুঁকি কমবে। নতুন গবেষণায় এমনটাই দাবি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের বিজ্ঞানীরা।
‘জার্নাল অব জেরোন্টোলজি’-তে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের বিজ্ঞানীরা। বলা হয়েছে, লাল আলোর দিকে টানা তিন মিনিট যদি তাকিয়ে থাকা যায় তাহলে চোখের রেটিনার যে কোনও সমস্যা কমতে থাকে। বিশেষত বয়সজনিত কারণে যখন রেটিনা দুর্বল হতে শুরু করে যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘’
(Retinal Aging/Aging Retina), তখনই দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ‘লো-ভিশন’ এর সমস্যা শুরু হয়। এই লাল আলোর থেরাপিতে ‘লো-ভিশন’-এর সমস্যা দূর করা সম্ভব।
চিকিৎসকরা বলেন, ‘লো ভিশন’-এর জন্য অস্ত্রোপচার বা ওষুধ নয়, প্রয়োজন ‘লো-ভিশন এড’। এটি এমন যন্ত্র, যা কোনও জিনিসকে চোখের সামনে বড় করে ধরে। কিন্তু তার থেকেও বড় সমাধান মিলতে পারে যদি ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যাকেই দূর করা যায়। ব্রিটিশ গবেষকদের সমীক্ষা বলছে, ইংল্যান্ডে ৬৫ বছরের উপরে প্রায় ২ কোটি মানুষ ক্ষীণদৃষ্টি, অন্ধত্বের সমস্যায় ভোগেন। প্রবীণরা শুধু নন, লো-ভিশনে আক্রান্ত হচ্ছেন কমবয়সীরাও। সেখানে লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে ব্যবহার করে চোখের রেটিনার শক্তি বাড়ানো যেতে পারে।

সেটা কীভাবে? গবেষকরা বলছেন, ক্ষীণদৃষ্টির কারণ হল রেটিনার শক্তি কমে যাওয়া। বয়স বাড়লে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এর কারণ হল
মাইটোকনড্রিয়াল কোষের ক্ষমতা কমে যাওয়া। এই মাইটোকনড্রিয়া কোষই শক্তি (এটিপি) তৈরি করতে পারে। রেটিনার
ফোটোরিসেপটর কোষে (Photoreceptor Cells) মাইটোকনড্রিয়ার ঘনত্ব অনেক বেশি। কাজেই অনেক বেশি শক্তির দরকার হয়। তার ঘাটতি হলেই লো-ভিশন এর সমস্যা দেখা দেয়।
রেটিনায় দু’রকমের ফটোরিসেপটর থাকে রড এবং কোন। এই রড কোষ কম আলোতে দেখতে সাহায্য করে (Scotopic Vision) আর কোন কোষ কাজ করে বেশি আলোয় (Photopic Vision), নানা রমক রঙ দেখতে সাহায্য করে এই ফোটোরিসেপটর। গবেষকরা বলছেন এই রড ও কোন ফটোরিসেপটরদের ক্ষমতা বাড়াতে ৬৭০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলো রেটিনায় ফেলে পরীক্ষা করা হয়েছে। দিনে তিন মিনিট করে ১৪ দিন ধরে পরীক্ষা করা হয়েছে নানা বয়সের মানুষের উপরে। ছোট এলইডি টর্চ থেকে আলো ফেলে এই পরীক্ষা করা হয়েছে।
দেখা গেছে, ১৫ দিনে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী লো-ভিশনের রোগীদের কোন রিসেপটরের ক্ষমতা বেড়েছে ২০%, তাঁরা রঙের পার্থক্যও করতে পারছেন। পাশাপাশি রড রিসেপটরের কার্যক্ষমতাও বেড়েছে। কম আলোয় বা রাতের বেলায় তাঁদের দৃষ্টিশক্তি তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার হয়েছে।
গবেষকরা বলছেন এই থেরাপি সহজ ও নিরাপদ। তবে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে করা ঠিক হবে না।