দ্য ওয়াল ব্যুরো : পরিষ্কার করে বলুন তো, নাগরিকত্ব আইন কীভাবে ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষতি করবে বলে আপনারা মনে করেন? সিএএ বিরোধীদের উদ্দেশে এমনই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ল কর্ণাটকের বিজেপি। অন্যান্য রাজ্যের মতো কর্ণাটকেও শুরু হয়েছে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলন। এই প্রেক্ষিতে বুধবার টুইট করে বিজেপি। তাতেই বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ করা হয়।
টুইটে বলা হয়েছে, “সিএএ-র মাননীয় বিরোধীগণ, এই মানবিক আইনের ফলে কোন কোন ভারতীয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের তালিকা দিন। সেই সঙ্গে জানাবেন, তাঁরা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।” এরপরেই চ্যালেঞ্জ করে বলা হয়েছে, “আমরা নিশ্চিত, আপনারা একটি নামও দিতে পারবেন না।”
এর আগে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনকে এককথায় ‘নৈরাজ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি দিল্লিতে ভোটের প্রচারে বলেন, শাহিনবাগ বা জামিয়া মিলিয়ায় আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ত নয়। দিল্লিতে শাসক আপ এবং কংগ্রেস মিলে অশান্তি সৃষ্টির জন্য ছক কষেছে।
তাঁর কথায়, “সিলামপুর, জামিয়া বা শাহিনবাগ ও আরও নানা জায়গায় নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছে। আপনারা কি মনে করেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতগুলো জায়গায় প্রতিবাদ হচ্ছে? মোটেই তা নয়। এর পিছনে আছে রাজনীতি। যদি একটা আইন নিয়েই আন্দোলন হত, এতদিনে থেমে যেত।”
বিরোধীদের সমালোচনা করে মোদী বলেন, “তাঁরা নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন। পাকিস্তানে যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপরে নিপীড়ন চলছে তা তাঁরা দেখতে পান না। আমরা কি নিপীড়িতদের সাহায্য করব না? কিছুদিন আগে পাকিস্তান সেনা একটা চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। তাতে স্পষ্ট লেখা ছিল, যাঁরা মুসলমান নন, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন না।”
এর পরেই তিনি বলেন, একটি ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন করার জন্য নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করা হয়েছে। আমরা প্রতিবেশী দেশগুলির সংখ্যালঘুদের একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি পালন করছি।”
বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমাদের সরকার কয়েক দশকের পুরানো ভুল সংশোধন করার চেষ্টা করছে। বিরোধীরা বলছেন সরকারের সিদ্ধান্ত সাম্প্রদায়িক। দেশের মানুষ বিরোধীদের আসল রূপ জানে।”
সংসদের বাজেট অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বলেন, “আমাদের মহাত্মা গান্ধী দেশভাগের পর বলেছিলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যদি ভারতে আশ্রয় নেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত। জাতির জনকের ইচ্ছাকে আমাদের সম্মান দিয়ে সংসদের উভয় কক্ষে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন বিল পাশ হয়েছে। তাতে আমি খুশি হয়েছি।”