
শেষ আপডেট: 9 December 2023 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই কন্যা সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল পূর্ণিমা বারিকের। মাস ফুরলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে রাজ্য সরকারের দেওয়া ‘হাতখরচ’ পাঁচশো টাকাও ঢুকছিল অ্যাকাউন্টে। সেই টাকায় মেয়েদের টিউশনির খরচ মেটাতেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর-২ নম্বর ব্লকের খেপুত গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণবাড় গ্রামের বধূ।
কিন্তু গত জুন মাস থেকে আচমকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে পূর্ণমার। অ্যাকাউন্টে কেন ঢুকছে না টাকা, খোঁজ নিতে গিয়ে তাজ্জব বনে গিয়েছেন পূর্ণিমা। ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়, তিনি সরকারি খাতায় ‘মৃত’! তাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
বছর পঁয়ত্রিশের বধূ এরপর নিজেকে ‘জীবিত’ প্রমাণে সরকারি অফিসের দোরে দোরে ঘোরেন। কিন্তু এখনও সরকারি খাতায় তিনি ‘মৃত’! ফলে চালু হয়নি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। নিজেকে জীবিত প্রমাণে আদালতেও গিয়েছিলেন। সেখান থেকে জীবিত সার্টিফিকেট নিয়ে আসার পরও বধূর অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা চালু হয়নি বলে অভিযোগ।
বধূর কথায়, “অনেকের কাছে এই ৫০০ টাকার হয়তো তেমন কোনও মূল্য নাও থাকতে পারে। তবে আমার কাছে দিদির এই ৫০০ টাকার মূল্য অনেক। ওই টাকায় মেয়েদের টিউশনির খরচ মেটাতাম। সংসারের টুকিটাকি জিনিসও কিনতাম। আচমকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুব সমস্যায় পড়ে গিয়েছি।”
একজন জ্বলজ্যান্ত মহিলা কীভাবে সরকারি খাতায় ‘মৃত’ হলেন? প্রশাসন সূত্রে খবর, আধার কার্ডের সমস্যার কারণেই এমনটা হয়েছে। দাসপুর-২ নম্বর ব্লকের বিডিও প্রবীর কুমার শিট বলেন, “ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসন কে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”