
শ্রদ্ধা জানাল জুন মালিয়া, অগ্নিমিত্রা পল
শেষ আপডেট: 15 June 2024 16:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুয়েত থেকে মেদিনীপুরে বাড়িতে ফিরলেন দ্বারিকেশ পট্টনায়েক। কফিন বন্দি ইঞ্জিনিয়ারের দেহ পেল পরিবার।
বুধবার কুয়েতের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় দ্বারিকেশের। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের কাছে মৃত্যুসংবাদ আসে। ৪৮ ঘণ্টা পর শনিবার সকালে বিশেষ বিমানে দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে তাঁর কফিনবন্দি দেহ নিয়ে আসা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ মেদিনীপুর শহরের শরৎপল্লির বাড়িতে এসে পৌঁছায় তাঁর কফিনবন্দি দেহ। সেখানে ছিলেন তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ে ছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
এলাকার সকল রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা শরৎপল্লীর বাড়িতে গিয়ে দ্বারিকেশের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানায়। এসেছিলেন মেদিনীপুরের সদ্য নির্বাচিত সাংসদ জুন মালিয়া, মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান, তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা,বিজেপির জেলা সহ সভাপতি শংকর গুছাইত সহ সিপিএমের বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব। জুন মালিয়া শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর বাড়ির দোতলায় স্ত্রী এবং মেয়েকে সমবেদনা জানাতে যান।
দ্বরিকেশের শ্যালক সায়ন্তন পট্টনায়েক বলেন, "জামাইবাবুর দেহ আনতে গিয়েছিলাম কলকাতা বিমান বন্দরে। আর বলার কিছু নেই, সব শেষ। জামাইবাবু মারা যাওয়ায় ভাগ্নি পিতৃহীন হয়ে পড়ল। যতটা পারবো আমি মামা হয়ে সারা জীবন পাশে থাকবো। রাজ্য সরকার প্রথম থেকে সহযোগিতা করেছেন। শেষ কৃত্য করা হবে। ওনার দেশের বাড়ি দাঁতনে তুরকা গ্রাম পঞ্চায়েতের খণ্ডরুই গ্রামে।"
পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর সাংসদ জুন মালিয়া বলেন, "আমাকে দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এখানে পাঠিয়েছেন। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। কুয়েতে আমাদের অনেকে পরিযায়ী শ্রমিকেরা কাজ করতে যান, এক্সকিউটিভরা গিয়ে কাজ করেন। ৪৫ জন ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে সেফটি মেজর কিছু নেওয়া হয়নি। ছাদের দরজা বন্ধ ছিল। ছাদেও যেতে পারেনি, দমবন্ধ হয়ে মারা গিয়েছে। দু ডজন গ্যাস সিলিন্ডার নিচে রাখা ছিল। দমকলের নিয়ম মানা হয়নি। পরিবারকে সুন্দর রাখতে বিদেশে গিয়ে কাজ করছিলেন। তাদের সাথে এমন একটা ঘটনা ঘটলে সত্যি মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে যায়।"
শুক্রবার রাতেই কুয়েত থেকে কেরলের কোচিতে এসে পৌঁছেছিল দ্বারিকেশ সহ কুয়েতে কর্মরত ৪৫ জন ভারতীয়র দেহ। পরে সেখান থেকে দ্বারিকেশের দেহ কলকাতার উদ্দেশে বিমানে রওনা দেয়। শনিবার সকালে কফিনবন্দি দেহ এসে পৌছলে দমদম বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, বিজেপির বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল। বিমানবন্দরেই দ্বারিকেশের কফিনে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। পরে সড়ক পথে দ্বারিকেশের দেহ মেদিনীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।
দ্বারিকেশের আদি বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন- ২ ব্লকের তুরকাগড় এলাকায় হলেও দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পরিবার রয়েছে মেদিনীপুর শহরের শরৎপল্লী এলাকায়। দ্বারিকেশের পরিবারে রয়েছে স্ত্রী অন্তরা ও এক মেয়ে ঐশী। একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ঐশী। মৃতের পরিবার সূত্রের খবর, প্রায় ২০ বছর ধরে কুয়েতে একটি সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। তার আগে মুম্বইয়ে একটি সংস্থায় কাজ করতেন। শরৎপল্লীর বাড়ি হয়ে তাঁর কফিনবন্দি দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে দাঁতনের গ্রামে। সেখানেই সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।